‘সদ্য বেকার’ উপদেষ্টাদের পুনর্মিলনী মন্ত্রিপাড়ায়

ফাওজুল কবির খানের মিন্টো রোডের সরকারি বাড়িতে ইফতার ও নৈশভোজের অনুষ্ঠানে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা। ছবি: শফিকুল আলমের ফেসবুক পেজ
ফাওজুল কবির খানের মিন্টো রোডের সরকারি বাড়িতে ইফতার ও নৈশভোজের অনুষ্ঠানে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা। ছবি: শফিকুল আলমের ফেসবুক পেজ

মন্ত্রিপাড়া খালি করে দিতে হবে, নতুন সরকারের বার্তা এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কাছে। বাক্স-পেটরা গোছানো শুরুওে করেছেন তারা। তার মধ্যেই একসঙ্গে দেখা গেল তাদের।

ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকাকালে তার প্রেসসচিব ছিলেন যিনি, সেই শফিকুল আলম শুক্রবার তার ফেসবুক পেজে বেশ কয়েকটি ছবি দিয়েছেন, যেখানে সদ্য বিদায়ী উপদেষ্টাদের একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

শফিকুল আলম সেই পোস্টে লিখেছেন, ফাওজুল কবির খানের আমন্ত্রণে ইফতার ও নৈশভোজের অনুষ্ঠানে এক হয়েছিলেন তারা। তা হয়েছিল ফাওজুল কবির খানের সরকারি বাড়িতে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টারে দায়িত্ব পালনকারী ফাওজুল কবির ঢাকার মিন্টো রোডে সরকারি বাড়িতে উঠেছিলেন। সেখান থেকে শনিবার তারা নিজেদের ভাড়া করা একটি ফ্ল্যাটে উঠে যাচ্ছেন বলে শফিকুল আলম জানিয়েছেন। যাওয়ার আগে সবাইকে দাওয়াত দিয়ে একত্রিত করেন তিনি।

ফাওজুল কবির খানের আমন্ত্রণে মিন্টো রোডের সরকারি বাড়িতে ইফতার ও নৈশভোজের অনুষ্ঠানে শুক্রবার এক হয়েছিলেন মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা। তারা একটি কেকও কাটেন। ছবি: শফিকুল আলমের ফেসবুক পেজ

মন্ত্রিপাড়ার এই বাড়িটির সবুজ চত্বরে আয়োজিত হয়েছিল এই অনুষ্ঠান। সেখানে এক পাশে ছিল বসার জন্য চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা। অন্য পাশে ছিল খাবারের আয়োজন।

ছবিতে মুহাম্মদ ইউনূসের পাশাপাশি উপদেষ্টাদের মধ্যে দেখা গেছে এম সাখাওয়াত হোসেন খান, সালেহ উদ্দিন আহমেদ, সি আর আবরার, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ফরিদা আখতার, তৌহিদ হোসেন, শারমিন মুরশিদ, শেখ বশির উদ্দীন, আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সুপ্রদীপ চাকমা, আদিলুর রহমান খান শুভ্র, বিধান চন্দ্র রায় পোদ্দারকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায় নেওয়া গভর্নর আহসান এইচ মনসুরও আমন্ত্রিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। উপদেষ্টাদের কয়েকজনের স্ত্রীও ছিলেন সেখানে।

ফাওজুল কবির খানের আমন্ত্রণে মিন্টো রোডের সরকারি বাড়িতে ইফতার ও নৈশভোজের অনুষ্ঠানে আড্ডা ও খোশগল্পে মাতোয়ারা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা। ছবি: শফিকুল আলমের ফেসবুক পেজ

ছবিতে তাদের আড্ডা-গল্পে বেশ মশগুল দেখা যায়। তারা একটি কেকও কাটেন। তবে কেকে কী লেখা, তা বোঝা যায়নি। আর দেখা গেছে পুরুষরা এক টেবিলে বসেছেন, নারীরা অন্য টেবিলে।

শফিকুল আলম সস্ত্রীক যে অনুষ্ঠানে ছিলেন, তা বোঝা গেছে একটি সেলফিতে, যার অর্থ তিনি ছবিগুলো তুলেছিলেন। তাই এই পোস্টের নিচে একজন মন্তব্য করেন, “শফিক ভাই এখনো প্রেস সেক্রেটারি।”

ফাওজুল কবির খানের আমন্ত্রণে মিন্টো রোডের সরকারি বাড়িতে ইফতার ও নৈশভোজের অনুষ্ঠানে খাবার নিচ্ছেন মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সরকারের সদস্যরা। ছবি: শফিকুল আলমের ফেসবুক পেজ

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন ইউনূস। দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিদায় নেন উপদেষ্টারা।

এই উপদেষ্টাদের কারও কারও পালানোর গুঞ্জনও চলছিল। তবে তাদের অধিকাংশকে দেশেই দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এরই মধ্যে দেশ ছেড়েছেন।

ফাওজুল কবির খানের আমন্ত্রণে মিন্টো রোডের সরকারি বাড়িতে ইফতার ও নৈশভোজের অনুষ্ঠানে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের অনেকে স্বস্ত্রীক অংশ নিয়েছিলেন। তবে নারীদের বসার ব্যবস্থা ছিল আলাদা। ছবি: শফিকুল আলমের ফেসবুক পেজ

ফাওজুল কবির খানের বাসায় ইফতার আয়োজনে ফয়েজ আহমদ না থাকা নিয়ে একজন মন্তব্য করেন, “ফয়েজ তৈয়্যব ভাই মিসিং!”

উপদেষ্টা পরিষদে থাকা জুলাই আন্দোলনের তরুণ নেতাদের না থাকা নিয়েও একজন প্রশ্ন তোলেন। মন্তব্যের ঘরে তিনি লেখেন, “সাবেক ছাত্র নাহিদ আসিফ মাহফুজরা কোথায়? তাদেরকে ডাকেননি?”

উপদেষ্টাদের একসঙ্গে দেখে অনেকে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেন। তবে একজন লেখেন, “সদ্য বেকার লোকজনের সমাবেশ! নাইস আইডিয়া।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads