যমুনা ছাড়লেও ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ইউনূস যেসব সুবিধা পাবেন

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এসএসএফের নিরাপত্তা নিয়ে চলতেন মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী এক বছর এই ‍সুবিধা পাবেন তিনি। ফাইল ছবি
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এসএসএফের নিরাপত্তা নিয়ে চলতেন মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী এক বছর এই ‍সুবিধা পাবেন তিনি। ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের পদ ছেড়ে গেছেন মুহাম্মদ ইউনূস। তবে যাওয়ার আগে নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি ঘোষণা করে গেছেন তিনি। এর ফলে এখনও তিনি বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে কিছূ সুবিধা পান। এর বাইরে সরকার কাউকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করলে তিনিও সেই সুবিধা পান।

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নিয়েছিলেন নোবেলজয়ী ইউনূস। নির্বাচনের মধ্যদিয়ে নতুন সরকার গঠনের পর গত ১৭ আগস্ট বিদায় নেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ছিলেন ইউনূস। গত সপ্তাহে সেই ভবন ছাড়ার পর তার ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণার খবর প্রকাশ হয়, যা বিভিন্ন সংবাদপত্রে এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুদিন আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ইউনূসকে আগামী এক বছরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশিত হয়।

‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’রা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী বা এসএসএফের নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। এসএসএফ আইনের ২ ধারায় বলা আছে, “অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অর্থ সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান বা সরকার প্রধান এবং এই আইনের উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে, অনুরূপ ব্যক্তি বলিয়া ঘোষিত অন্য কোনো ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন।”

এই আইনের ৮(২) ধারা অনুসারে এসএসএফ বাংলাদেশে অবস্থানরত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকেও দৈহিক নিরাপত্তা দেবে। অর্থাৎ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এসএসএফ নিয়োজিত থাকবে এবং তার নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা থাকলে তা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদান করবে।

অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্য কাউকে ক্ষতিকর মনে হলে এসএসএফ তাকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারও করতে পারে। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে গুলি অথবা হত্যাও করতে পারবে।

গেজেট নিয়ে লুকোছাপা

ইউনূসকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণার গেজেটটি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) এর ওয়েবসাইটে নেই; যদিও সরকার কর্তৃক প্রকাশিত সব গেজেট সেখানে থাকে।

এ বিষয়ে বিজি প্রেসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “অনেক সময় কোনো সংস্থা গেজেট করলে গেজেটের আদেশের কপি ওয়েবসাইটে না দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। তখন আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। এ ক্ষেত্রেও সরকারি নির্দেশনার কারণেই এটি ওয়েবসাইটে দেয়া হয়নি।”

তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্না এ প্রজ্ঞাপনে সই করেছিলেন। তিনি এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত। প্রথম আলোকে তিনি এই প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিদায় নেয়ার আগে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি

গেজেটে বলা হয়েছে, “সরকার বিশেষ নিরাপত্তা আইন ২০২১ এর ধারা ২ (ক) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তাহার দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করিল।”

এর অর্থ, ইউনূস আগামী বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবধি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে এসএসএফ সুবিধা পাবেন। ফলে তার নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটাতে কেউ চাইলে তাকে জীবনের ঝুঁকি নিতে হবে।

অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের বিভিন্ন বেষ্টনীতে মোতায়েনের মাধ্যমে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

‘আইনের লঙ্ঘন নয়’

ইউনূসকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঘোষণার বিষয়ে কথা বলেছেন তার সময়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, এসএসএফ সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া এসএসএফ কোনো সাবেক সরকার প্রধানকে নিরাপত্তা দেয় না। সুতরাং এটি অস্বাভাবিক বা নজিরবিহীন কোনো বিষয় নয়।

২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমানও দায়িত্ব ছাড়ার আগে এ ধরনের একটি আদেশ হয়েছিল বলে জানান শফিকুল।

সাধারণত বিদায়ী সরকার প্রধানকে এসএসএফ সুবিধা পাওয়ার রেওয়াজ বাংলাদেশে নেই। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে বিরোধী দলে যাওয়ার পর এসএসএফ সুবিধা তারা পাননি।

তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর খালেদা জিয়াকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঘোষণা করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর তার নিরাপত্তায় এসএসএফ মোতায়েন করা হয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার সুবিধা বাতিলের জন্য জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯ বাতিল করে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads