দাদিকে নিয়ে জাইমা রহমানের আবেগঘন স্মৃতিচারণ

দাদি খালেদা জিয়ার কোলে জাইমা রহমান।
দাদি খালেদা জিয়ার কোলে জাইমা রহমান।

দাদি খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ সময় কাছে পাননি তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। আর দশটা সাধারণ মেয়ের মতোই দাদি যে তারও স্মৃতিতে ভেসে বেড়ান তা বলতে কার্পণ্য করেননি তিনি।

দেশে ফিরে দাদির পাশে থাকতে চেয়েছিলেন জাইমা। তবে নিয়তি নির্মম। সকল হিসেব নিকেশের ঊর্ধ্বে চলে গেছেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ইনস্টাগ্রামে ইংরেজিতে লেখা পাঁচ দিন আগের সেই আবেগঘন পোস্টটি আজও প্রাসঙ্গিক।

বাংলা অনুবাদ হুবহু তুলে ধরা হলো:

আমার দাদুকে ঘিরে থাকা আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি তার পরিবারে ভালোবাসার বাতাবরণ, অভিভাবকসুলভ ভূমিকার প্রতিচ্ছবি। আমার বয়স তখন প্রায় এগারো। আমাদের স্কুল দল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট জিতেছিল। মা আমাকে সরাসরি দাদুর অফিসে নিয়ে গেলেন, যেন আমি নিজেই তাকে আমার মেডেল দেখাতে পারি। গোলরক্ষক হিসেবে আমার ‘বীরত্বের’ গল্প বলতে বলতে আমি টের পেয়েছিলাম, তিনি কত মনোযোগ দিয়ে তিনি শুনছিলেন, কতটা গর্বিত। এতটাই যে পরে তিনি সেই গল্প অন্যদের সঙ্গেও ভাগ করে নিয়েছিলেন।

আমি সবসময় জানতাম, আমার দাদু নিজের কাঁধে একটি জাতির ভার বহন করে বেড়ান। কোটি মানুষের কাছে তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু আমার আর আমার কাজিনদের কাছে তিনি সবার আগে ‘দাদু’। তিনি সবসময় খেয়াল রাখতেন, সময় দিতেন, সাহস জোগাতেন, বিশেষ করে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে। সেসব মুহূর্তই ছিল আমার নেতৃত্বের প্রথম পাঠ: বিনয়, আন্তরিকতা আর মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।

বাংলাদেশের বাইরে সতেরোটি বছর আমার জীবনকে গভীরভাবে বদলে দিয়েছে। কিন্তু আমি কখনোই আমার শিকড় ভুলিনি। আমরা যেসব বিষয়ে নিজেকে নোঙর করি—আমাদের সংস্কৃতি, সমাজ আর পরিচয়—সেগুলিই আমাদের গড়ে তোলে। বিদেশে বেড়ে ওঠা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও একাধিক জগতে বাস করেছি। লন্ডন আমাকে স্থিরতা ও দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশই ছিল আমার মনোযোগের কেন্দ্র।

শিক্ষাজীবন আমাকে শৃঙ্খলা শিখিয়েছে, কিন্তু আইন পেশায় কাজ করা আমাকে সবচেয়ে বেশি গড়ে তুলেছে। প্রতিটি মামলা, প্রতিটি আলাপ কারও না কারও কাছে তা গভীরভাবে ব্যক্তিগত। অনেক সময় মানুষকে শুধু এতটুকু বোঝানোই যথেষ্ট যে তাকে দেখা হচ্ছে, শোনা হচ্ছে- বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ন্যায়বিচারের প্রাঙ্গণে নিজেদের অদৃশ্য মনে করেছে। কারও জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনের একটিতে তার পাশে দাঁড়ানোই সততা আর সহমর্মিতার প্রকৃত শিক্ষা দেয়।

আমি কখনো আমার দাদাকে দেখিনি, কিন্তু তিনি যে সততা আর দেশপ্রেম নিয়ে জীবন কাটিয়েছেন, তা আমি সবসময়ই জেনেছি। আমার দাদু ও আব্বু সেই উত্তরাধিকার এগিয়ে নিয়ে গেছেন। গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ আগস্টের পরের সময়টাতে আমি আড়ালেই ছিলাম, যেভাবে পেরেছি সাহায্য করেছি, বেশি বলার চেয়ে বেশি শুনেছি, ছোট ছোট দৈনন্দিন কাজে তাদের বোঝা হালকা করার চেষ্টা করেছি।

ঘরে ফেরার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু অনুভূতি। ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই এবং এই প্রচারণা সময়ে আব্বুকে সমর্থন দিতে চাই। আমি ফিরিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে উঠতে, সমৃদ্ধ হতে দেখতে চাই এবং এর মানুষের সঙ্গে মুখোমুখি আবার সংযোগ স্থাপন করতে চাই, কারণ অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার সবচেয়ে আন্তরিক পথ সেটিই।

এটাই আমার পথচলা, আমার নিজের ভাষায় বলা। যদি এই গল্প আপনাকে ছুঁয়ে যায়, তবে হয়তো আমরা একসঙ্গেই এই পথে হাঁটতে পারি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads