ময়মনসিংহে হিন্দু যুবককে হত্যা: ধর্ম অবমাননার ‘ক্লু’ পায়নি র‌্যাব, গ্রেপ্তার ১০

দীপু চন্দ্র দাস নামের ওই যুবককে পিটিয়ে আহত করার পর গাছে ঝুলিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
দীপু চন্দ্র দাস নামের ওই যুবককে পিটিয়ে আহত করার পর গাছে ঝুলিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহের ভালুকায় হিন্দু যুবককে পিটিয়ে অর্ধমৃত অবস্থায় গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি তদন্তে ওই ঘটনার সঙ্গে ধর্ম অবমাননার মতো কোনো বিষয়ের যোগসূত্র এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জনিয়েছে র‌্যাব।

শনিবার প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইড ফেইসবুক পেজে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়। র‌্যাবও আলাদাভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি অবহিত করেছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে সাত জনকে র‍্যাপিড অ‍্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তররা হলেন, মো. লিমন সরকার (১৯), মো. তারেক হোসেন (১৯), মো. মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিজুম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮), মো. মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)

এছাড়া মো. আজমল হাসান সগীর (২৬), মো, শাহিন মিয়া (১৯) ও মো. নাজমুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদের মধ্যে আলমগীর হোসেন পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কোম্পানির ফ্লোর ম্যানেজার এবং মিরাজ হোসেন আকন কারখানার কোয়ালিটি ইনচার্জ।

বৃহস্পতিবার রাতে দীপু চন্দ্র দাস নামের ওই যুবককে হত্যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশে বিদেশে তা নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

সীমানার ওপারে ভারতেও ঘটনার আঁচ লাগে; দেশটির সংবাদপত্রে তুলে ধরা হয় সচিত্র প্রতিবেদন। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে।

নিহত দীপু চন্দ্র দাস।

এদিকে, শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৪ এর পরিচালক নাইমুল হাসান জানিয়েছেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাসকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরে কারখানার ফ্লোর ম্যানেজার তাকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “ঘটনার সূত্রপাত হয় ৪টার সময়। ফ্যাক্টরির ফ্লোর ইনচার্জ তাকে (দীপুকে) ইস্তফা দিতে বাধ্য করে। ইস্তফা দেওয়ার পর উত্তেজিত জনতার কাছে সে (ফ্লোর ম্যানেজার) হ্যান্ডওভার করে দেয়। পুলিশের কাছে কেন দেয়নি, তার নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত করেনি সেজন্য পাইওনিয়ার কারখানার দু‘জনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি।“

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বার বার চেষ্টা করেছি, কাকে বলেছে, কী বলেছে- এটা কিন্তু কেউ বলতে পারেনি।”

“আমার মনে হয়, উত্তেজিত জনতা কিংবা পূর্বের কোনো শত্রুতা ছিল কিনা সেটাও তদন্ত করে দেখব,” যোগ করেন তিনি।

দ্য সান টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আগেই একজন শ্রমিক জানিয়েছিলেন, দীপুকে হত্যার পেছনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত নয়, বরং ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শ্রমিক শুক্রবার জানিয়েছিলেন, দীপু চন্দ্র দাস সস্প্রতি পদোন্নতি পেয়েছিলেন। একই পদের দাবিদার ছিলেন আরও তিনজন। পরবর্তীতে তারাই তার প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই গার্মেন্টসে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে সহকর্মীরা তার নামে ধর্ম অবমাননার গল্প ছড়িয়ে দেয়।

র‌্যাব কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, তারা দীপু চন্দ্র দাস কী বলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন তা কেউ বলতে পারেনি। ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করছেন তারা।

র‌্যাব কর্মকর্তা নাইমুল হাসান বলেন, “একটা লোককে এই অভিযোগে মেরে ফেলা এবং গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে তাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই আইনে কভার করে না এবং সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এটাকে গ্রহণযোগ্য মনে করে না। মামলা যেহেতু থানায় হয়েছে, ফলে থানাই এই মামলা তদন্ত করবে।”

পাশাপাশি র‌্যাব ‘ছায়া-তদন্ত’ চালিয়ে যাবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর:

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads