ইউরোপের দেশগুলোতে গত বছর আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছিলেন ৪৩ হাজার ২৩৬ জন বাংলাদেশি, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে এসব আবেদনের প্রায় ৯৬ শতাংশই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম (ইইউএএ) সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্লাস (ইইউ+) দেশগুলোতে আশ্রয় চেয়ে গত বছর যে ৪৩ হাজার ২৩৬ জন বাংলাদেশি আবেদন করেছিলেন, তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ৩ জন জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে এবং ২০ হাজার ২৩৩ জন জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে আবেদন জমা দিয়েছিলেন।
ইউ+ বলতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের সঙ্গে নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডকে বোঝায়।
ইইউএএর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ইউরোপের দেশগুলোতে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করা বাংলাদেশিদের সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার ৩৩২ জন। এই হিসাবে গত বছর ইউরোপে আশ্রয়প্রত্যাশী বাংলাদেশির সংখ্যা ৭ দশমকি ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
সংস্থাটির তথ্য বলছে, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে আশ্রয়ের জন্য গত বছর বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে ছিল ইতালি। দেশটিতে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেন ৩৩ হাজার ৪৫৫ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪২৯টি আবেদন জমা পড়ে ফ্রান্সে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬টি আবেদন পড়ে আয়ারল্যান্ডে।
তবে গত ১০ বছরের মধ্যে ২০০৪ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশি ইউরোপের দেশগুলোতে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করলেও তাদের মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশের আবেদন গৃহীত হয়েছে। বাকি ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ বাংলাদেশির আবেদনই হয়েছে প্রত্যাখ্যাত।
ইইউএএর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইইউ+ দেশগুলোতে আশ্রয় চেয়ে মোট ১০ লাখ ১৪ হাজার ৪২০টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন আসে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া থেকে, ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৬টি।
দক্ষিণ এশিয়া থেকে গত বছর আশ্রয় চেয়ে সবচেয়ে বেশি ৮৭ হাজার ৩৮২টি আবেদন জমা পড়ে আফগানিস্তান থেকে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে ছিল বাংলাদেশ। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ আবেদন জমা পড়ে পাকিস্তান থেকে, ২৩ হাজার ২৪০টি।



