মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বা বাসসের প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে মাহবুব মোর্শেদের নিয়োগ কি যোগ্যতার বিচারে হয়েছে? সেই প্রশ্ন আসছিল আগেই।
কিন্তু ইউনূসের বিদায় নেওয়ার পর মাহবুব মোর্শেদকে সরিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগের ঘটনায় সেই স্বীকারোক্তি এল খোদ অন্তর্বর্তী প্রশাসনে নিয়োগ পাওয়া একজনের কাছ থেকে। আবার তার প্রতিক্রিয়া অন্য নিয়োগের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ওই প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী আরেকজন।
২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরেই রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব বদলে যায়। তা সুপ্রিম কোর্ট, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সর্বত্র। এই বদলানোর হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল ‘মব’। চাপের মুখে অনেকে পদত্যাগ করেন। সেই জায়গায় নতুন নিয়োগ দেয় ইউনূস সরকার।
এভাবেই রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বাসসে নিয়োগ পান মাহবুব মোর্শেদ, যার সাংবাদিকের চেয়ে গল্পকার হিসেবেই পরিচতি বেশি। নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করতেই বাসসের কর্মীরা মাহবুব মোর্শেদকে সরাতে উঠেপড়ে লাগে। তাদের চাপের মুখে অফিস ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
তাকে সরানোর এই চাপ নিয়ে আলোচনার মধ্যে আজাদ মজুমদার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, মাহবুব মোর্শেদ এই পদে অযোগ্য ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা পদে ইউনূস থাকার সময় যে প্রেস উইং তৈরি করেছিলেন, তার একজন এই আজাদ মজুমদার, তার পদ ছিল প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব।
তিনি শুক্রবার ফেসবুকে লিখেছেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের যত নিয়োগ ছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে অযোগ্য ছিল মাহাবুব মোর্শেদ (এই বানানে লিখেছেন তিনি)। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ে দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো সহযোগিতাই পাইনি। একবার তো গুমের রিপোর্টই সে গুম করে দিয়েছে। যে রিপোর্টার এই রিপোর্ট করেছে, তাকে অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।”
মাহবুব মোর্শেদকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন জানিয়ে আজাদ মজুমদার লিখেছেন, “শুধুমাত্র একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রিয়পাত্র হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। তার নিয়োগটি বাতিলযোগ্য ছিল।”

আজাদ মজুমদারের সেই পোস্টে আবার কমেন্ট করেছেন সুচিস্মিতা তিথি, যিনি প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব ছিলেন।
সুচিস্মিতা তিথি লিখেছেন, “আপনার সাথে একমত না। সবচেয়ে অযোগ্য নিয়োগ মাহাবুব মোর্শেদ না। চূড়ান্ত অথর্ব একজন আপনার অফিসেই ছিলেন।”
‘চূড়ান্ত অথর্ব’ ব্যক্তিটি কে, তা বলেননি তিথি। তবে তিনি যে প্রেস উইংয়ের কাউকে ইঙ্গিত করেছেন, তা স্পষ্ট।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ে প্রেস সচিবের দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ শফিকুল আলম। এএফপির ঢাকা ব্যুরোর সাবেক এই প্রধান তার নানা মন্তব্যের জন্য বরাবরই সমালোচিত ছিলেন। অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সমর্থকরা তাকে ‘ডাস্টবিন শফিক’ নামেই আখ্যায়িত করে থাকে।
প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিবের পদে আজাদ মজুমদারের সঙ্গে ছিলেন অপূর্ব জাহাঙ্গীর। তিনি অধ্যাপক ইউনূসের ভাতিজা। প্রয়াত মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের ছেলে তিনি।
এছাড়া জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিবের পদে ছিলেন ফয়েজ আহম্মদ। তিনি ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের বিশেষ প্রতিনিধি ছিলেন। প্রেস উইংয়ে দায়িত্ব পালন শেষের পর তিনি জানিয়েছেন, আবার সাংবাদিকতায় ফেরার ইচ্ছা আছে তার।
সুচিস্মিতা তিথি কী করবেন, তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় আছেন বলে জানিয়েছেন। শফিকুল আলম ও আজাদ মজুমদার এরই মধ্যে নতুন একটি ইংরেজি দৈনিকে যোগ দিয়েছেন। শফিক হয়েছেন সম্পাদক, আজাদ নির্বাহী সম্পাদক।
নির্বাচিত সরকার আমলে এই নিয়োগগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় হয় বলে তা নিয়ে সমালোচনাও ওঠে। কিন্তু ইউনূস সরকারও সেই সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি।
ইউনূস নিজের ভাতিজাকে উপ প্রেস সচিব করার পাশাপাশি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়েছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকে তার একনিষ্ঠ কর্মী নুরজাহান বেগমকে। আবার ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদকে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কের পদে বসিয়েছিলেন।



