বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে পুলিশের মন্তব্যের প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে রিকশায় মাইক ঝুলিয়ে সেই ভাষণ বাজিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।
এর আগে শনিবার দুপুরে রাজধানীর চানখাঁরপুল মোড়ে সাউন্ড বক্সে ভাষণ বাজানোর ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ।
আটকের বিষয়ে ব্যাখ্যায় পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিষিদ্ধ ভাষণ বাজানোর দায়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সম্পর্কিত খবর গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান ছাত্রজনতা।
পরে ওই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে শাহবাগ থানার সামনে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা মাইক ব্যবহার করে ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে থাকেন।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি।
তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এ দেশে নিষিদ্ধ নয়। তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক। তাকে কেউ চেষ্টা করলেও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। আমাদের সরিয়ে দিলেও নতুন প্রজন্ম এই ইতিহাস বহন করে নিয়ে যাবে।”
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পরিচয়ে কয়েকজন সেখানে জড়ো হয়ে ৭ মার্চের ভাষণ প্রচারকারীদের ওপর চড়াও হন। এ সময় তারা আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে থামিয়ে দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের প্রচার।

ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চকে ঘিরে কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে নওগাঁয় জেলা আওয়ামী লীগের ভাঙা দলীয় কার্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার করা হয়। সকালে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শফিকুর রহমান মামুনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাষণের একটি ভিডিও আপলোড করা হয়।
আধামিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, ৫ আগস্ট পরবর্তী কার্যক্রম নিষিদ্ধ নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের ভাঙা দলীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় ছোট্ট একটি মাইকে প্রচার হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ।
খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।
চানখাঁরপুল এলাকায় সাউন্ড বক্সে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর সময় পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকা সাউন্ড সিস্টেম জব্দ করে নিয়ে গেছেন। এসময় দুজনকে আটক করা হয়।
শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো হচ্ছিল, যা নিষিদ্ধ। এ অভিযোগে ওই দুজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
আটক দুজনের বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হলে শাহবাগ থানার সামনে জড়ো হয়ে প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজায় একদল শিক্ষার্থী।
এ সম্পর্কিত আরও খবর:



