নারী সদস্যদের হিজাবে সায় দিল সেনাবাহিনী

Bangladesh Army 1

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সেনা সদস্যরা এখন থেকে ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরতে পারবেন, যে অনুমতি এতদিন তাদের ছিল না।

রোববার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর এক নির্দেশ জারি করে বলেছে, আগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হল। সেনা সদস্যরা (অফিসার, এএফএনএস এবং অন্যান্য পদবী) ইচ্ছা করলে সেনা ইউনিকর্মের উপর হিজাব পরতে পারবেন।

বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর নারী সদস্যদের ইউনফর্মের সঙ্গে হিজাব পরিধানের অনুমোদনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যদিও বিভিন্ন মহল থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলে বলা হয়েছিল, এর ফলে সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় উন্মাদনা বৃদ্ধি পাবে; ধর্মীয় বিধান সম্বলিত কোন পোশাক সেনাবাহিনীর জন্য কাম্য নয়।

অবশ্য রোববার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঢাকা সেনানিবাসের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ আরিফ হোসেন নারী সদস্যদের হিজাব পরিধানের বিষয়ে নির্দেশনা জারি করার পর এ বিষয়ক আলোচনার আর সুযোগ রইল না।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হিজাব পরার বিষয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে-

ক. সামরিক পোশাকের সঙ্গে হিজাব পরার আগে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া হিজাব পরা যাবে না।

খ. হিজাবের উপরে প্রযোজ্য সকল ক্ষেত্রে ক্যাপ পরিধান করতে হবে। উল্লেখ্য, হিজাব পরার কারণে সামরিক পোশাকের সঙ্গে ক্যাপ পরিধানে যাতে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

গ. সব সময় হিজাবের সঙ্গে মানানসই ফুলহাতা পোশাক (ইউনিফর্ম, ওয়ার্কিং ড্রেস ইত্যাদি) পরা আবশ্যিক। পিটি ও গেমসে হিজাব ব্যবহারকারী নারী সদস্যদের সেনাবাহিনীর দেওয়া ট্র্যাকস্যুট পরতে হবে।

ঘ. পিটি, গেমসের সময়ও নারী সেনা সদস্যরা হিজাব পরতে পারবেন।

নারী সেনাসদস্যদের জন্য সামরিক পোশাকের সাথে পরিধেয় হিজাবে কাপড় এবং রঙ নির্ধারণ এবং কারিগরি প্রস্তুত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে ওই নির্দেশিকায়।

পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশে নারী সেনা সদস্যরা সামরিক পোশাকের অতিরিক্ত হিসেবে হিজাব পরে থাকেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads