বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহতদের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন

rangpur

রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সশস্ত্র সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম লাভলু মিয়া (৫০)। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুরুতর আহত নয়জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এলাকার লোকজন জানান, একটি দোকান নিয়ে মালিক ও ভাড়াটিয়ার দ্বন্দ্বের জেরে তাদের পক্ষ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক মানিকের অনুসারীরা।

শহরের শহীদ মিনারের পাশে কালুপাড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য ইশতিয়াক বাবুর একটি দোকান ভাড়া নিয়ে টিনের ব্যবসা করতেন স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম। গত মাসের দিকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে জানিয়ে জাহিদুল ইসলামকে দোকান ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন দোকান মালিক ইশতিয়াক বাবু। কিন্তু ওই ব্যবসায়ীর দাবি, ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে ঈদের পরের দিন দোকানে তালা লাগিয়ে দোকান বন্ধ করে দেন মালিক ইশতিয়াক বাবু।

এ ঘটনায় দোকান মালিক ইশতিয়াক বাবুর পক্ষে মোহাম্মদ আলী সরকার ও ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামের পক্ষ নেয় শহিদুল হক মানিক। শুক্রবার মোহাম্মদ আলী সরকারকে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেন শহিদুল হক মানিকের ছেলে ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য তানভীর আহমেদ তামাল। এতে ক্ষিপ্ত হয় মোহাম্মদ আলী সরকারের অনুসারীরা।

এদিকে দোকান মালিকের বিরুদ্ধে শনিবার সকালে মানববন্ধনের আয়োজন করেন ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম। এসময় মোহাম্মদ আলী সরকারের অনুসারীরা মানববন্ধনের ব্যানার কেড়ে নিলে শুরু হয় দুগ্রুপের সংঘর্ষ। এতে লাভলু মিয়া নিহত হন আর আহত হন দুপক্ষের ১৫ জন।

উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, “লাভলু আমার পারিবারিক সদস্য ও নিবেদিত একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। তাকে বদরগঞ্জ বাজারে প্রকাশ্যে মাথায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।’

সংঘর্ষে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন উপজেলার কাঁচাবাড়ি গ্রামের শরিফুল ইসলাম (৫৫), ময়নাল হোসেন (২৫), বৈরামপুর গ্রামের মোক্তারুল হোসেন (৫২), পাঠানপাড়ার মোন্নাফ হোসেন (৫০), মংলু মিয়া (৪০), মিতু হোসেন (৪২), জয়নাল হোসেন (৪৫) ও মুন্না খান (৪০)।

বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক শাকির মুবাশ্বির বলেন, আহত নয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রত্যেকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সংঘর্ষ মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা সতর্ক পাহারায় আছেন।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, মূল ঘটনা একটা দোকান নিয়ে। দোকানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশ ও সেনা সদস্যরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে আছেন। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর ক্যাপটেন মেহেদী বলেন, মূলত বদরগঞ্জ পৌর এলাকায় একটি টিনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন