কুমিল্লার ঠাকুরপাড়া কালীগাছতলা মন্দিরে দুর্বৃত্তের ছোড়া হাতবোমায় পুরোহিতসহ চারজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় পাশের একটি মসজিদের সামনে আরও দুই হাতবোমা নিক্ষেপ করে।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে রাতেই কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা র্যাবের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
আহতরা হলেন- কালীগাছতলা মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী এবং বাগানবাড়ি মসজিদের নামাজ পড়তে যাওয়া সুজাত আলীর ছেলে আবদুল বারেক ও একই এলাকার অধিবাসী নজরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ। আহত অপর একজনের পরিচয় জানা যায়নি।
তাদের কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মূল মন্দিরের আঙিনায় কালীগাছতলায় (বটবৃক্ষ) শনিপুজা চলাকালীন এ হামলা চালানো হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাকসাম রোডের সালাউদ্দিন হোটেল এলাকা থেকে ৩/৪ জন দৌড়িয়ে এসে এক এক করে তিনটি স্থানে ককটেল ছুড়ে মেরে ঠাকুর পাড়া এলাকা দিয়ে পালিয়ে গেছে।
প্রথম বোমাটি শ্রী শ্রী কালীবেদী কালীগাছতলায়, দ্বিতীয়টি এর একশ গজ দূরে অবস্থিত বৌদ্ধ মন্দিরের মূলফটকে এবং তৃতীয়টি ব্র্যাক অফিসের মূল ফটকের সামনে বিস্ফোরিত হয়।
এ সময় পূজা দিতে আসা ভক্তরা ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন।

ঘটনাস্থলে পাওয়া বোমার আলমত যাচাই করে দেখা যায় সেগুলো জিআই পাইপ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। এ ছাড়া কালীগাছতলা মন্দির আঙিনায় একটি শপিং ব্যাগও পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, নির্বাচন পরবর্তী কুমিল্লার পরিবেশ অশান্ত করার জন্য সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
“বোমার আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে অভিজ্ঞ দল এসে তদন্ত করবে। এ ছাড়া মন্দিরের সামনে রেখে যাওয়া সাদা ব্যাগটি পুলিশ হেফাজতে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে,” যোগ করেন তিনি।
এর আগে ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা নগরের নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দর্পণ সংঘের উদ্যোগে তৈরি অস্থায়ী পূজামণ্ডপে হামলা–ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।
নগরের নানুয়া দিঘির পাড়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তৈরি অস্থায়ী পূজামণ্ডপে প্রতিমার মধ্যে মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেসময় চারটি মন্দির ও সাতটি পূজামণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্তে বেরিয়ে আসে হিন্দু সম্প্রদায়কে ফাঁসিয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিমার ভেতরে কোরআন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।



