রাজধানীর উত্তরা ও রমনা থানার পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হাত থাকার খবর সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লেও খোদ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বলছে আগুনের কারণ ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’।
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ- পুসাব সর্বপ্রথম ঘটনাটি আওয়ামী লীগের নাশকতা বলে ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেয়।
অবশ্য পরে পুলিশ ও বেশ কয়েকটি ‘ফেক্টচেকার’ প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ- পুসাব থেকে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
সর্বশেষ বিকেল ৫টায় ওই পেইজে গিয়ে দেখা যায় পোস্ট সেখানে আর নেই।
পুসাব ছাড়াও কয়েকটি পেজে একইরকম পোস্ট দিয়ে বলা হয়, “সকালে উত্তরায় বাসে আগুন, রাতে গাজীপুরে ৩টি বাসে আগুন, মোহাম্মদপুরে প্রিপারেটরি স্কুলে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ— শহরজুড়ে সন্ত্রাস করছে আওয়ামী লীগ।”
বুধবার বেলা ১১টার দিকে রমনা থানার ঠিক সামনে পুলিশের ব্যবহৃত চীনে তৈরি একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরে যায়। গাড়িটি মেরামতের সময় দুর্ঘটনাবশত এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রমনা থানার ওসি গোলাম ফারুক।
তিনি বলেন, গাড়িটিতে মেরামতি কাজ করার সময় মিস্ত্রি ভুলবশত ব্যাটারির দুটি সংযোগ এক করে দিলে সেটাতে আগুন ধরে যায়।
এয়ারপোর্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, “গাড়ির ইঞ্জিন হঠাৎ করে অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লেগে গিয়েছিল। তবে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। এটি কোনো নাশকতা নয়।”
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলমও নিশ্চিত করেছেন, “রমনা থানার সামনের গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনাতেও নাশকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি যান্ত্রিক ত্রুটি বলেই মনে হচ্ছে।”
ডিএমপি নিউজেও এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
এদিকে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার কাজে ব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট সনাক্তে সাইবার ইউনিট কাজ শুরু করেছে।



