প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
বুধবার গভীর রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্ত্রীসহ শেখ মামুনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আদালত।
দুদক তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা সেসময় জানালেও কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা এখনও অনিশ্চিত।
তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, জঙ্গি নাটক সাজানো, দুর্নীতির মাধ্যমে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প থেকে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জনের মতো অভিযোগ দুদক খতিয়ে দেখছিল।
ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগসহ ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মামুনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
দুদিন আগেই সেনাবাহিনীর সাবেক তিন তারকা জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যিনি ২০০৭-০৮ সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নানা কারণে বেশ আলোচিত ছিলেন।
মঙ্গলবার মানবপাচারের মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার একদিন পরেই তখনকার আরেক প্রভাবশালী সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

সিগন্যালস কোরের কর্মকর্তা হিসেবে শেখ মামুন ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ডিজিএফআইতে পরিচালক (এফএসআইবি) হিসেবে যোগ দেন।
পরে ২০০৮ সালের জুনে তিনি ব্রিগেডিয়ার চৌধুরী ফজলুল বারির স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিচালকের (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর-সিআইবি) দায়িত্ব পালন করেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবরের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১১ সালে মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ডিজিএফআইয়ে ফিরে আসেন।
প্রায় দেড় বছর এই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন মেজর জেনারেল আকবর হোসেন।
সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় শেখ মামুন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপাচার্য ছিলেন। পরে অবসরে যাওয়ার আগে তিন তারকা জেনারেল হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লায় কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আরও খবর:



