শুক্রবারের পত্রিকা : ‘বেতন-বোনাসের চাপে শিল্প আরো নাজুক’

Newspaper_07022025 (5)

মাগুরায় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ৮ বছর বয়সী শিশুটির মৃত্যুর খবরটি শুক্রবার গুরুত্ব পেয়েছে দেশের প্রায় সব সংবাদপত্রেই। এর বাইরে সরকার পরিবর্তনের পর দেশের প্রায় সব শিল্প-কারখানার রুগ্ণ হয়ে পড়া, প্রধান উপদেষ্টার আসন্ন চীন সফর, নির্বাচন সামনে রেখে দল সামলাতে বিএনপির তৎপরতা ও ঈদে মানুষের গ্রামে ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার খবরও গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছে কয়েকটি সংবাদপত্র। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক শুক্রবার কোন সংবাদপত্র কোন খবরকে প্রধান শিরোনাম করেছে।

কালের কণ্ঠ

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রায় সব শিল্প-কারখানা রুগ্ণ হয়ে পড়েছে– এমন খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে কালের কণ্ঠ। ‘বেতন-বোনাসের চাপে শিল্প আরো নাজুক’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর কদিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ সময়ে শিল্প-কারখানার সক্ষমতা থাকুক বা না থাকুক কর্মীদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা সব শিল্প মালিকের জন্য বাধ্যতামূলক। কিন্তু রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের পর প্রায় সব শিল্প-কারখানা রুগ্ণ হয়ে পড়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বকেয়া বেতন-ভাতা, বোনাসসহ নানা দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনে অস্থির হয়ে উঠেছিল শিল্পাঞ্চল। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে যায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। অন্যদিকে বড় বড় সরকারি প্রকল্প স্থবির হয়ে সরকারি ব্যয়ও কমে গেছে। আর এতে নির্মাণসহ অনেক সংযোগ শিল্প খাত রুগ্ণ হওয়ার পথে। এ অবস্থায় কারখানায় উৎপাদনক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শিল্প-কারখানার মালিকরা। ফলে ঈদ সামনে রেখে কর্মীদের মজুরি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।

তবে দেশের শীর্ষ রপ্তানি আয়ের খাত তৈরি পোশাক শিল্প কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও কম দামে কার্যাদেশ নেওয়া, কারখানায় জ্বালানিসংকট এবং কাঁচামাল আমদানিতে ডলার সংকটে তারাও চাপে আছে। সরকারের দেওয়া প্রণোদনার বড় অঙ্ক এখনো আটকে রয়েছে।

প্রথম আলো

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশুটির মৃত্যুর খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে প্রথম আলোও। ‘মাগুরার শিশুটিকে বাঁচানো গেল না’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড়ই অল্প সময় ছিল তার পৃথিবীতে বসবাস। সেই স্বল্পায়ু জীবনে এক বিরাট বিপুল নির্মমতার সুতীব্র যন্ত্রণায় পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিল অবোধ শিশুটি। অথচ কতই না প্রেম, ভালোবাসা, মহত্ত্ব, মানবিকতার গর্ব এই পৃথিবীকে নিয়ে!

তখন মধ্যদুপুর। নির্মমতার শিকার মাগুরার শিশুটি নেই। তার মা হাহাকার করে বলছিলেন ‘মণি চলে গেছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) শিশু বিভাগে এসে দেখা গেল, শোকবিহ্বল পরিবেশ। ঘণ্টাখানেক আগে চিরতরে থেমে গেছে শিশুটির হৃৎস্পন্দন। শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (পিআইসিইউ) থেকে তার মরদেহ বের করা হয়েছে। আকাশি রঙের বিছানার চাদরের সঙ্গে একই রঙের চাদর দিয়ে ঢাকা ছোট শীর্ণ দেহটি বিছানার সঙ্গে যেন মিশে গিয়েছিল।

হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, আয়া ও স্বজনেরা ঘিরে রেখেছেন বিছানায় চিরনিদ্রায় শায়িত শিশুটিকে। ওর মা পাশে দাঁড়িয়ে বিলাপ করে বলছিলেন, কেমন ছিল তাঁর আট বছরের মেয়ে। কী করত, কী বলত—এসব আরও কত কী! যন্ত্রণায় পুড়তে থাকা এই মাকে কী বলে সান্ত্বনা দেওয়া যাবে? তাঁর বিলাপে হতবাক হয়ে পড়েছিলেন চারপাশের সবাই।

‘মাগুরার শিশু’ নামে যার পরিচয় গড়ে উঠেছিল, ধর্ষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষায় যে হয়ে উঠেছিল ‘প্রতীক’—টানা ৯ দিনের কষ্টযাত্রার মধ্য দিয়ে চিরবিদায় নিয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল সে বিছানায়। যেন নীরবে ধিক্কার দিয়ে যাচ্ছিল সমাজ সংসার, সভ্যতা, ক্ষমতা, রাজনীতি আর মানবিকতার ধ্বজা বহনকারীদের।

সমকাল

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশুটির মৃত্যুর খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে সমকাল। ‘ঝরেই গেল ‘ছোট্ট ফুল’ আছিয়া, কাঁদছে দেশ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশু আছিয়া খাতুন সেই কফিনে ‘ঘুমে’। মমতামাখা হাতে সেই কফিন স্পর্শ করছিলেন মা আয়েশা আক্তার। ততক্ষণে জানা হয়ে গেছে, আর কখনও ঘুম ভাঙবে না বুকের নিধি আছিয়ার। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমঘরের সামনে তখন পিনপতন নিঃশব্দ। মধ্যদুপুরে আছিয়া নামে ‘ছোট্ট ফুল’ অকালে ঝরে যাওয়ায় ফাল্গুনের শেষ বিকেলটায় সবার মনে যন্ত্রণার পীড়া। আছিয়ার কফিন যখন বের করে আনা হয়, তখন হঠাৎ ভেঙে যায় নীরবতা। মায়ের হৃদয়ভায় আর্তনাদে উপস্থিত সবার চোখের আঙিনায় বোনাজল। ‘আছিয়া আছিয়া’ বিলাপ যেন মামছিল না আয়েশার। মাগুরায় বর্ষণের শিরায় আছিয়া দেশ- বিদেশের কোটি মানুষের জন্য নাড়িয়ে গতকাল দুপুরে চলে গেল অনন্তলোকে।

সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল দুপুর ১টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। জানিয়েছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সমবেদনার পাশাপাশি ফোর প্রকাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে ছাত্র-জনতা। ভরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে মশাল মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. দুহাম্মদ ইউনুস। আসামিদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ইত্তেফাক

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশুটির মৃত্যুর খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে ইত্তেফাকও। ‘অনেক কষ্ট নিয়ে চলে গেল ছোট্ট আছিয়া’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসকদের কোনো চেষ্টাই কাজে এলো না। শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না মাগুরায় ধর্ষণের শিকার আট বছরের শিশুটিকে। ছোট্ট শরীর আর হৃদয়ে অনেক ক্ষত নিয়ে নীরবে চলে গেল সে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে আসামিদের দ্রুত বিচারের

আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মাগুরা শহরতলির নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে গত ৬ মার্চ শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। সেই খবরে সারা দেশে তৈরি হয় ক্ষোভ। ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সেই থেকে প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও মিছিল, মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি চলছে। গতকালও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে।

যুগান্তর

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশুটির মৃত্যুর খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে যুগান্তরও। ‘মুকুলেই ঝরে গেল মাগুরার ফুলশিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে গেছে মাগুরার সেই শিশুটি। জাগবে না কোনো দিন, চারদিক আলো করে মুকুল থেকে আর ফুটবে না সেই ফুল। ৮ বছর বয়সে তার পুতুল খেলার কথা। সে সময়ই নরপিশাচদের হিংস্র থাবায় লন্ডভন্ড হয়ে গেল জীবন।

মানুষরূপী শকুনেরা খামচে খুবলে খেয়েছে তার নরম শরীর। টানা ৭ দিন ছোট্ট শরীর সেই যন্ত্রণায় ছটফট করেছে। এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে পৃথিবীকে ধিক্কার জানিয়ে একরাশ অভিমান বুকে চেপে চির বিদায় নিয়েছে। চিৎকার দিয়ে পৃথিবীতে আগমনের ঘোষণা দেওয়া শিশুটি বিদায় বেলায়ও পুরো দেশ নাড়িয়ে দিয়ে গেছে। কান্নায় ভাসিয়েছে দেশবাসীকে একই সঙ্গে করেছে অপরাধীও।

রাষ্ট্রযন্ত্র মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে নিরাপত্তা দিতে না পারলেও বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টায় করেছিল। প্রতিদিন স্ট্যান্ডার্ড আইসিইউ প্রটোকল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং সে অনুযায়ী তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সিএমএইচ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শিশুটি।

বণিক বার্তা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের আসন্ন চীন সফরের খবরকে প্রধান প্রতিবেদন করেছে বণিক বার্তা।  ‘চীনের বড় আর্থিক সমর্থন নিয়ে আশা ও সংশয় দুই-ই থাকছে’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারদিনের এক সরকারি সফরে ২৬ মার্চ চীন যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২৮ মার্চ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলম।

প্রধান উপদেষ্টা এমন এক সময়ে এ সফরে যাচ্ছেন যখন চীন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে করা চুক্তি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে কোনো ঋণ সহায়তার চুক্তি হয়নি বাংলাদেশের। এ সময় আগে প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থ ছাড় হয়েছে ২৭ কোটি ডলারের কিছু কম।

গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে চীন সফরে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল চীনের কাছ থেকে ২০ বিলিয়ন (২ হাজার কোটি) ডলারের ঋণ সহায়তা পাওয়া যাবে। যদিও সে সময় দেশটি থেকে ঋণ সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেছে মোটে ১ বিলিয়ন ইউয়ানের (বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ১৪ কোটি ডলার)। গত দুই অর্থবছরে এটিই ছিল চীনের কাছ থেকে পাওয়া একমাত্র ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি, সেটিও আনুষ্ঠানিক নয়, মৌখিক। এ সময় আগে প্রতিশ্রুত ঋণের কিছু অর্থ ছাড় হলেও তা হয়েছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।

কালবেলা

আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি দল সামলানোর তৎপরতার খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে কালবেলা। ‘তৃণমূল সামলানোর চ্যালেঞ্জে বিএনপি’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সামলানো দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তৃণমূলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ‘বিএনপির শত্রু বিএনপি’। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বেশকিছু নির্দেশনা দেন বিএনপির হাইকমান্ড। কিন্তু কেন্দ্রের নির্দেশেও থামানো যাচ্ছে না বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত। নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সভা-সমাবেশ, ইফতার মাহফিলসহ জনবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে এসব কর্মসূচিও পালন করছে। একদিকে যেমন এসব কর্মসূচি পালন হচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধ দখল এবং চাঁদাবাজির কারণে দলটির ইমেজ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

যদিও এসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন দলটির হাইকমান্ড। এরই মধ্যে দলের উচ্চপর্যায় থেকে নানান নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অপরাধে সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার এবং অনেকের দলীয় পদ স্থগিত ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলমান আছে। অনেক ক্ষেত্রে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে জেলা-উপজেলাসহ তৃণমূলের বিভিন্ন কমিটি। এরপরও থেমে নেই দখল, চাঁদাবাজি ও হানাহানি। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও দলের অন্তর্কোন্দলে সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ঘটছে অভ্যন্তরীণ সহিংসতার ঘটনাও।

নয়া দিগন্ত

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশের উত্তোরণ আগামী বছরই হচ্ছে– সরকারের জানানো এমন খবর দিয়েই প্রধান প্রতিবেদন করেছে নয়াদিগন্ত। ‘আগামী বছরই উন্নয়নশীল দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছরই (২০২৬) স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশ দেন। ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান। প্রেস সচিব বলেন, সে অনুযায়ী বেশ কিছু পজিশন পেপার প্রস্তুত করা হয়েছে। আমরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা বলতে পারি, ২০২৬ সালে যখন এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন হবে, তখন আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে এর সক্ষমতাও বাড়বে।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন

সম্প্রতি চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় এবার ঈদযাত্রায় মহাসড়কে নিরাপত্তার আশঙ্কা রয়েছে– এমন খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন, যা মূলত চারটি ঘটনা নিয়ে প্যাকেজ আয়োজন। ‘ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা শঙ্কা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের দুর্ভোগ নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে এবার বাড়ি ফেরা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সম্প্রতি চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় মহাসড়কে এবার নিরাপত্তার আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে এবার ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আমিনবাজার, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড়, বাবুবাজার এলাকায় দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হতে পারে। শুধু ঢাকার এসব স্থানই নয়, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ১৫৯ স্থানে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত রবিবার সড়ক ও মহাসড়ক, সেতু ও রেলপথের যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে আয়োজিত আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভায় যানজট, সড়ক সংস্কার, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, টোল আদায়ে ইটিসি বুথ চালুসহ কয়েকটি বিষয় আলোচনা হয়েছে।

ঢাকার বাস টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে পকেটমার, চোর, মলম পার্টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা গাবতলী, মহাখালী, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনার নির্দেশ দেন। এজন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে একজন করে প্রতিনিধি, বিআরটিএর একজন প্রতিনিধি ও ডিএমপির একজন প্রতিনিধি নিয়ে মোট চারজনের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়।

আজকের পত্রিকা

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশুটির মৃত্যুর খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে আজকের পত্রিকাও। ‘অচেতন থেকেই সব নির্মমতার ঊর্ধ্বে’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, অগণিত মানুষের প্রার্থনা, চিকিৎসকদের প্রাণান্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে সব নৃশংসতার ঊর্ধ্বে চলে গেছে মাগুরার শিশুটি। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) দ্বিতীয় দফায় বন্ধ হওয়া হৃৎস্পন্দন আর ফিরে না আসায় গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। ধর্ষণ ও নির্মমতার শিকার মেয়েটি অচেতন অবস্থাতেই মাত্র আট বছর বয়সে পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেল অনন্তে।

সিএমএইচ চত্বরে মেয়ে হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাওয়া মা অপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে সারা দেশে। শিশুটির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই ধর্ষণ মামলার আসামিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার আগামী সাত দিনের মধ্যে শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

শিশুটির মরদেহ হেলিকপ্টারে করে মাগুরায় নেওয়া হয়। সঙ্গে ছিল তার পরিবার। মাগুরা শহরের নোমানী ময়দানে সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রথম জানাজা হয়। পরে গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।

দেশ রূপান্তর

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশুটির মৃত্যুর খবর দিয়ে প্রধান প্রতিবেদন করেছে দেশ রূপান্তরও। ‘সভ্যতার ভিত নাড়িয়ে গেল মাগুরার শিশুটি’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবন আর মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ; কোটি কোটি মানুষের আকুতি, প্রার্থনা; সর্বোচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসা সবই বৃথা গেল। বাঁচানো গেল না মাগুরায় পাশবিক নির্যাতনের শিকার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া আট বছরের কন্যা শিশুটিকে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল শিশুটি।

গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সময়ে এই মৃত্যুসংবাদ বিষাদে ছেয়ে ফেলে পুরো দেশকে। শিশুটির মৃত্যুতে নানা শ্রেণি, বয়স ও পেশার মানুষ কেঁদেছে। গতকাল তো বটেই, গত কয়েক দিন ধরেই আলোচিত চরিত্র হয়ে উঠেছিল মাগুরার এ শিশুটি। দেশে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর নিপীড়ন, ধর্ষণ ও নির্যাতন নিয়ে আলোচনা হয় প্রতিনিয়ত। ভুক্তভোগীর পরিবারগুলো এসব ঘটনায় বিষাদে নিমজ্জিত। মাগুরার নির্যাতিত শিশুটির ঘটনা সভ্যতার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। শিশুটি রেখে গেল অনেক প্রশ্ন। যেসব প্রশ্নের উত্তর দেশবাসী খুঁজছে বহুদিন ধরে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads