সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ যখন নিজের দলেই ‘কোণঠাসা’ তখন মুখ খুললেন আওয়ামী লীগের মুখপাত্র, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত।
রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৯ মিনিট ১০ সেকেন্ডের এক অডিও বার্তায় কোটা আন্দোলনের সময়ের নানা তথ্য তুলে ধরে বলেন, হাসনাতদের কথায় তার কোনো আস্থা নেই, কারণ তাদের ভেতরের এবং বাহিরের চেহারা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
‘রিফাইনড’ আওয়ামী লীগ বিষয়ে সেনাবাহিনীর কথা বলার কারণ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কেন তারা রিফাইন আওয়ামী লীগের কথা বলবে? আওয়ামী লীগ রিফাইন হবে নাকি হবে না, সেটা আওয়ামী লীগ-ই ডিসাইড করবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ডিসাইড করবে। সেনাবাহিনী আমাদের পক্ষ থেকে এই রিফাইন আওয়ামী লীগের নেগোসিয়েশন করার কেউ না।”
“সেনাবাহিনীর এই ধরনের কথা বলার কোনো কারণই নাই। আর আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করারও কোন প্রশ্ন এখানে আসে না। কারণ আওয়ামী লীগ আছে, আওয়ামী লীগ ছিল, আওয়ামী লীগ থাকবে। এদেশের জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগ।”
হাসনাত আব্দুল্লাহ সদ্য গঠিত নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্বে রয়েছেন। তার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে, সেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও রাজনৈতিক নেতারা জানিয়ে যাচ্ছেন প্রতিক্রিয়া।
ইতোমধ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হাসনাতের বক্তব্য প্রকাশের ধরন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন তারই দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।
এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও হাসনাতের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।
মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, “অবাস্তব এবং অযৌক্তিক এবং মিথ্যাচার করে যারা একটা পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তারা যেভাবে কালিমা লেপন করছে; সেনাবাহিনীর মতো একটা প্রতিষ্ঠানকে তারা আজকে মুখোমুখি করেছে। এটা খুবই দুঃখজনক।”
ছাত্র আন্দোলনের ওই নেতাদের কথায় বিশ্বাস রাখতে পারছেন না মন্তব্য করে মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, “এই হাসনাত আব্দুল্লাহ, ছাত্র সমন্বয়ক, যে এখন এনসিপি নামে নতুন যে পার্টি হয়েছে তার একজন নেতা, কিছুদিন আগে যে বলল সেনাবাহিনীর সাথে তার মিটিংয়ে কী কী কথা হয়েছে। আমি তো তার কথা বিশ্বাস করতে পারি না। এই কারণে পারি না, কারণ গোপন মিটিংগুলোতে কী কথা হয়, বাইরে এসে (তারা) মিথ্যা কথা বলে।”
এ বিষয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হাসনাত, সারজিস ও হাসিব নামে তিন জনের সঙ্গে একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।
আওয়ামী লীগের মুখপাত্র বলেন, “দুই ঘণ্টার উপরে মিটিং হয়েছে। তারা আমাদেরকে রিকোয়েস্ট করেছিল যে আমরা যেন কোনোভাবেই না বলি যে তাদের সাথে আমরা আলোচনা করেছি এবং তাদের নয় দফাকে তারাই কিন্তু পরিবর্তন করে আট দফা করেছিল। তারা আমাদেরকে রিকোয়েস্ট করেছিল যে আমরা যেন কোনভাবেই এটা প্রকাশ না করি যে তাদের সাথে দুই ঘণ্টার উপরে মিটিং হয়েছে; আমরা যেন বলি যে তারা শুধু দাবি জানাতে এসেছিল, দাবি জানিয়ে চলে যাচ্ছে।
“তো ওই মিটিংয়ে আরো অনেক কথা হয়েছে। আমি এখন এগুলো বলছি না। কিন্তু এই মিটিংয়ে তারা কী বলেছিল এই বিষয়গুলো যদি আপনারা জানেন, তাহলে আপনারা দেখবেন যে ওরা কত বড় মিথ্যাবাদী।”
“কাজেই এই ছেলে গোপন মিটিংয়ে কী বলেছে এসব কথা আমি বিশ্বাস করি না। আমার মনে হয় না বাংলাদেশে কেউ বিশ্বাস করে।”