বাংলাদেশে হাজার হাজার ‘রাজনৈতিক গ্রেপ্তার’, মিলছে না জামিন: এইচআরডব্লিউ

এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের স্ক্রিনশট
এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের স্ক্রিনশট

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিবেচনায় হাজারো মানুষকে নির্বিচারে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিচারহীন অবস্থায় আটকে থাকা এসব রাজনৈতিক কর্মীদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না।

একইসঙ্গে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুন ও ও দমন–পীড়নের সংস্কৃতি বর্তমানে অনেকাংশে বন্ধ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ওই প্রতিবেদনে বর্তমান সরকারের সময়ে হেফাজতে মৃত্যু, সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ নানা অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।

বুধবার প্রকাশিত এইচআরডব্লিউ‘র বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৬–এ এসব কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন একনায়কতান্ত্রিক আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মানবাধিকার সংস্কার বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরের গোষ্ঠীর মব ভায়োলেন্স (উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ সহিংসতা) উদ্বেগজনক বৃদ্ধি। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে নারী অধিকার ও এলজিবিটিবিরোধী কট্টরপন্থীরা।

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ আগস্টের মধ্যে গণপিটুনিতে কমপক্ষে ১২৪ জন নিহত হয়েছে।

গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নির্বিচারে আটকের ধারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে মামলায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে কয়েক শ ব্যক্তিকে আসামি করার চর্চাও রয়েছে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের শত শত নেতা, কর্মী ও সমর্থক হত্যা মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে কারাবন্দী রয়েছেন। বিচারহীন অবস্থায় আটকে থাকা এসব ব্যক্তির জামিন নিয়মিতভাবে নাকচ করা হচ্ছে। এই তালিকায় অভিনেতা, আইনজীবী, গায়ক ও রাজনৈতিক কর্মীরাও রয়েছেন।

গত বছর শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামের অভিযানে কমপক্ষে ৮ হাজার ৬০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিন্নমত দমনে অতীতে ব্যবহৃত কঠোর বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে চব্বিশের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশের পর নিরাপত্তা বাহিনী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হন।

পরে পুলিশ সন্দেহভাজন কয়েক শ আওয়ামী লীগ সমর্থককে নির্বিচার আটক করে এবং ৮ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে ১০টি হত্যা মামলা দায়ের করে।

থামছে না হেফাজতে মৃত্যু

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর অক্টোবর মাসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এইচআরডব্লিউ বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ জন নির্যাতনে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার মানুষ আহত এবং ৮১ জন নিহত হয়েছেন।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

গত বছরের মে মাসে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ‘সাময়িকভাবে’ নিষিদ্ধ করে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে অন্যান্য বিধিনিষেধের মধ্যে দলটির সভা-সমাবেশ, প্রকাশনা এবং দলটির সমর্থনে অনলাইন বক্তব্য প্রচারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

২০২৫ সালে সাংবাদিকদের ওপর অসংখ্য হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশই ঘটিয়েছে রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সহিংস জনতা (মব)। এ ছাড়া ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ দেওয়ার অভিযোগে সাধারণ মানুষের দায়ের করা মামলায় লেখক ও সাহিত্যিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় মামলা নিয়েছে পুলিশ ও আদালত।

অন্যদিকে সাইবার নিরাপত্তা আইন (সিএসএ) মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অন্যায্য বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ করে দিচ্ছে। এই আইনের মাধ্যমে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’সহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজনৈতিক সমালোচকদের অপরাধী সাব্যস্ত করা এবং কারাগারে পাঠানোর ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কর্মকর্তাদের।

গত বছরের মার্চ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইনের ৯টি ধারা বাতিলে সংশোধনী আনে। তবে এই সংশোধনীর পরও আইনে এমন কিছু বিধান রয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ নয়।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা আন্দোলনের সময় পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে লিপ্ত ছিল, যার ফলে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

তবে অভিযুক্ত অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে সরকার সীমিত অগ্রগতি দেখিয়েছে।

জুলাই মাসে বাংলাদেশ পুলিশের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন যে, ২০২৪ সালের বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার জন্য মাত্র ৬০ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুরুতর অপরাধগুলোর বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে (আইসিটি) বেছে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে দেশীয় এই আদালতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা হয়েছিল।

গত নভেম্বরে এই ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে তাদের অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। গ্রেপ্তার থাকা একজন সাবেক পুলিশ প্রধান প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষ্য দিলে (রাজসাক্ষী) তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও এতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক সংগঠনের বিচার ও বিলুপ্ত করার ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এই ট্রাইব্যুনালকে।

এদিকে আওয়ামী লীগ আমলের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই কমিশন ১ হাজার ৮৫০টির বেশি অভিযোগ পেয়েছে। গত অক্টোবরে গুমের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ।

সংস্কার কার্যক্রম বন্ধ

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগ, নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ, নারী অধিকার, শ্রম অধিকার এবং সংবিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের সুপারিশ করতে বেশ কয়েকটি কমিশন গঠন করে। পরবর্তী সময়ে সংস্কার প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করতে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়।

তবে রাজনৈতিক অংশীজনদের মধ্যে ঐকমত্যের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে খুব কম সংস্কারই গৃহীত বা বাস্তবায়িত হয়েছে। গত ৫ আগস্ট অধ্যাপক ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণা’র আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন, যা পরে অক্টোবর মাসে আরও বিস্তারিতভাবে ‘জুলাই সনদ’ হিসেবে প্রকাশ করা হয়। গত নভেম্বরে অধ্যাপক ইউনূস ঘোষণা করেন, নির্বাচনের সময় সংবিধান সংস্কারের ওপর একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার জুলাই সনদের অংশবিশেষ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।

এ ছাড়া নারী নির্যাতনের ব্যাপকতা, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা এবং নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবেশ ও বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে তাদের জীবনমানের অবনতির বিষয়টি এইচআরডব্লিউর বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার

যৌনও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ব্যাপক আকারে রয়ে গিয়ে ছিল এবং নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষাবা ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ খুব কম ছিল। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে নারীরা অগ্রণীভূমিকা পালন করলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে তাদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব ছিল না।

প্রতিবেদনে বলা হয়. এপ্রিলে নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষায় ব্যবস্থাসহ প্রস্তাবের জন্য গঠিত কমিশন বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, নারীদের সমানভাবে অভিভাবকত্ব প্রদান, উত্তরাধিকার আইন সংস্কার এবং সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির সুপারিশ করে। এর কিছু দিন পরেই ইসলামী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের প্রায় ২০ হাজার সমর্থক রাজধানী ঢাকায় অন্যান্য ইস্যুর সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর প্রতিবাদে সমাবেশ করে।

১ লাখের বেশি নতুন শরণার্থী

২০২৪ সালের শুরু থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং জাতিগত সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে লড়াইও নির্যাতন থেকে বাঁচতে ১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রত্যাবাসনের পক্ষে প্রচারনা চালিয়ে গেছে।

সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের রোহিঙ্গাবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের আগে বাংলাদেশ আগস্টে কক্সবাজারে অংশীজনদের মধ্যে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্যাম্পগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং অপরাধী চক্রের চাপে রোহিঙ্গারা যৌন সহিংসতা, অপহরণ, জোরপূর্বক নিয়োগ এবং চাঁদাবাজিসহ নানারকমের চাপ এবং সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছে। অনেক ভুক্তভোগী সুরক্ষা, আইনি সহায়তা এবং চিকিৎসা সেবার প্রায় সম্পূর্ণ অভাবের কথা জানিয়েছেন।

বৈদেশিক সাহায্য হ্রাস এবং নতুন আগমনের ফলে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও প্রাক-শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং খাদ্য ও রান্নার গ্যাসের বরাদ্দ কমে গেছে। মানবিক কর্মীরা রোগের প্রাদুর্ভাব, শিশুদের অপুষ্টির পাশাপাশি মানব পাচার, অনিয়মিত অভিবাসন এবং গ্যাং সহিংসতার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন

২৬ ও ২৭ জুলাই, রংপুর জেলায় একদল জনতা হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের অন্তত ১৪টি বাড়ি ভাঙচুর করে। বছরের বিভিন্ন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অব্যাহত লঙ্ঘনের খবর পাওয়া গেছে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করার সময় সংঘটিত অপরাধের মধ্যে ধর্ষণও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার পতনের কারণ হওয়া ২০২৪ সালের বিক্ষোভ ছিল সম্পদের অসম বন্টনের বিরুদ্ধে একটি ক্ষোভের প্রতিফলন। ১৫-২৪ বছর বয়সী তরুণদের বেকারত্বের হার (শিক্ষা বা প্রশিক্ষণে নিয়োজিত আছে তারা বাদে) ২০২৪ সালে ৩০ শতাংশের বেশি ছিল, যা আঞ্চলিক মানদণ্ডে অনেক বেশি এবং লিঙ্গ বৈষম্যও ছিল প্রকট। মুদ্রাস্ফীতি কমলেও তা উচ্চস্তরেই ছিল, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৫ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে ‘চরমদারিদ্র্য ৯.৩ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং অতিরিক্ত ৩ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়বে।’

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান উৎস ছিল পোশাকখাত, যেখানে অধিকাংশ কর্মী নারী। সেপ্টেম্বরে মালিক ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে একটি চুক্তিস্বাক্ষরিত হয় যা কিছু শ্রমিকের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে পারে, যদিও নতুন আইনগৃহীত হলেও অনানুষ্ঠানিক খাতের আনুমানিক ৯০ শতাংশ শ্রমিক সুরক্ষাহীন থেকে যাবে।

জানুয়ারিতে চুরির অভিযোগে পোশাক কারখানার এক শ্রমিককে ঊর্ধ্বতন কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads