তারেকের মন্ত্রিসভায় খলিলের ভেল্কি

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলেন। এসময় খলিলুর রহমানও ছিলেন সেখানে। ছবি: বিএনপির প্রেস উইং
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলেন। এসময় খলিলুর রহমানও ছিলেন সেখানে। ছবি: বিএনপির প্রেস উইং

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার নতুন সরকারে ৪৯ জনকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বানিয়েছেন, তার মধ্যে একটি নাম দেখে সবারই চোখ কপালে উঠেছে। তিনি হচ্ছেন খলিলুর রহমান। টেকনোক্রেট হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হল তাকে।

মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের চিহ্ন হিসেবে বিএনপির সরকারেও থেকে গেলেন খলিল, যার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে বলে আগেই অভিযোগ ছিল। যে খলিলকে উপদেষ্টার পদ থেকে বাদ দিতে বিএনপিই এক সময় দাবি তুলেছিল, তাকেই কেন তারেক রহমান মন্ত্রী করলেন, তা কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিতর্কিত খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর হঠাৎ হয়ে ওঠেন আলোচনার বিষয়বস্তু, তবে সমালোচনাই বেশি হচ্ছিল তাকে নিয়ে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ইউনূস সরকার গঠন করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়িয়ে আনেন খলিলকে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে প্রথমে করা হয় প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাইরিপ্রেজেনটেটিভ।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা খলিল নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে দুই যুগ আগে বাংলাদেশ ছাড়ার পর এবার ঢাকায় ফিরেই ইউনূস প্রশাসনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়েও নাক গলাতে থাকেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিদেশে অবস্থানকালে ২০২৫ সালের এপ্রিলে খলিলকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদে বসান ইউনূস। এরপর মিয়ানমারের রাখাইনে বাংলাদেশ দিয়ে করিডোর স্থাপনে সবচেয়ে বেশি তৎপর হয়ে ওঠেন তিনি। তাতে আপত্তি জানানোয় পররাষ্ট্র সচিব জসীমউদ্দিনকে পদ হারাতে হয়। এই জসীমের ভাই সালাউদ্দিন কামরান এক সময় বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন।

তখনই খলিলকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোন ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ নিয়ে এসেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

এর মধ্যে চাউর হয় খলিল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, তিনি সেখানে রজার রহমান নামে পরিচিত। সেকথা অস্বীকার করেন খলিল। তবে তা করতে গিয়ে তারেক রহমানকে জড়িয়ে মন্তব্য করলে বিএনপি ক্ষেপে উঠে তাকে অপসারণের দাবি তোলে।

খলিলুর রহমান মঙ্গলবার টেকনোক্রেট হিসেবে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ছবি: বিএনপির প্রেস উইং

গত বছরের গত ২৪ মে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি নেতারা যে কয়টি দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে আসেন, তার মধ্যে খলিলকে সরানোর বিষয়টিও ছিল। সেদিন বিএনপির প্রতিনিধি দলে সালাহউদ্দিনের সঙ্গে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদও ছিলেন।

যে খলিলকে সরানোর দাবি লিখিতভাবে ইউনূসকে দিয়ে এসেছিলেন বিএনপির চার নেতা, তার সঙ্গেই এখন মন্ত্রিসভায় বসতে হবে তাদের।

নেপথ্যে কী ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং?

জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’র কথা বলে আসছেন। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের পর এনসিপির আহ্বায়ক এবং জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নতুন প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিকল্পনা করে দুই-তৃতীয়াংশ আসন সরকারি দল নিয়ে নিল, এই সংবিধান সংস্কার যাতে না হয়, এই জটিলতা, এটা পুরাটাই কিন্তু একটা ইঞ্জিনিয়ারিং আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি। আজকে জাতির সামনে সেটা উন্মোচন হচ্ছে খলিলুর রহমানের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে।’

বিএনপির এক সময়ের জোটসঙ্গী দল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান একদিন আগেই বলেছিলেন, ‘লন্ডনে ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠকেই নির্বাচনের ফলাফল চুড়ান্ত হয়েছে।’

তারেক রহমানের সঙ্গে ইউনূসের বৈঠকটি হয়েছিল গত বছরের জুন মাসে। ওই বৈঠকের পরই ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের আয়োজনের কথা বলেন ইউনূস। তার আগে তিনি নির্বাচনের কোনো দিনক্ষণ জানাচ্ছিলেন না।

লন্ডনের সেই বৈঠকে খলিলের উপস্থিতি তখন আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। কেননা তখনও বিএনপির প্রবল আপত্তি ছিল তার বিষয়ে।

কিন্তু সেই বৈঠকের আগে দেখা গেল, তারেক রহমান যখন লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে এলেন, তখন গাড়ি থেকে নামার পর তাকে অভ্যর্থনা জানাতে হাজির খলিল। হোটেল লবি দিয়ে ইউনূসের কক্ষ পর্যন্ত তারেক রহমানকে নিয়ে যান তিনি। পথে বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে তারেককে পরিচয়ও করিয়ে দিচ্ছিলেন।

এরপর যখন ইউনূস-তারেক বৈঠকে বসেন, তখনও খলিল সেখানে ছিলেন। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে খলিলও আসেন। তার সঙ্গেই বসতে হয়েছিল বিএনপি নেতা আমীর খসরুকে। যৌথ বিবৃতি খলিলই পড়ে শোনান। যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, তারেক রহমান ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তা শুনে ইউনূস বলেছেন, তিনি আগামী বছরের এপ্রিলে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও সব প্রস্তুতি সারা গেলে তা এগিয়ে ফেব্রুয়ারিতে আনা যেতে পারে।

২০২৫ সালের জুন মাসে লন্ডনে মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান।

লন্ডন বৈঠকে সক্রিয় ভূমিকার জন্য খলিলকে তারেক আস্থার জায়গায় নেন বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন। আবার যুক্তরাষ্ট্রের লবির সঙ্গে সংযোগ রক্ষার সেতু হিসেবেও খলিলকে রাখার কারণ হতে পারে বলে মনে করেন কেউ কেউ। যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে খলিলের ওয়াশিংটনে ভালো যোগাযোগ রয়েছে, জাতিসংঘেও এক সময় কাজ করেছেন তিনি।

তবে খলিলকে নিয়ে সন্দেহও আছে যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ঘুঁটি হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করছেন। এমন সন্দেহের কথা আভাসে-ইঙ্গিতে বিএনপি নেতারা দিয়েছেন। বাম নেতারা বলছেন সরাসরি। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ প্রশ্ন করেছিলেন- “খলিল সাহেবকে এবং সরকারকে জবাব দিতে হবে, তারা আসলে কার জন্য কাজ করছেন?”

খলিলকে নিয়ে সরব ছিলেন আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন শায়ের। আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থানে তার সঙ্গে প্রবাসী ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য এক থাকলেও খলিল প্রশ্নে দুজনের বিরোধ রয়েছে। খলিললে জন্য ইউনূসকে সুপারিশকারী পিনাকী একদিন আগেই শায়েরকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, খলিলও নাকি বিএনপির সরকারে থাকছে। শেষতক বিএনপি সরকারও ছোটন গ্যাং এর কবল থেকে বের হতে পারলো না?

খলিলকে নিয়ে এমনিতেই নানা রহস্য তৈরি হয়েছে, এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে সেই রহস্য আরো গাঢ় হলো।

খলিলের যত গোমর

খলিলকে ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী নিয়োগের সময় তার পরিচিতি দেওয়া হয়েছিল এভাবে- তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারে যোগ দেন তিনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ও কূটনীতিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি ১৯৮৩-৮৫ সময়কালে খলিলুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য তিনি।

তখন খলিলকে নিয়ে বেশ কয়েকটি পোস্ট দেন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ, যেগুলোর শিরোনাম ছিল ‘খলিল সমাচার’। সেখানে তিনি বলেন, “তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। এসব কিছুই তার পজিটিভ দিক। কিন্তু এর অন্তরালে তার একটা কুৎসিত দিক আছে এবং সেটা জানানোর জন্যই আজকে আমার এই পোস্ট।”

খলিল নিউ ইয়র্কে স্থায়ী মিশনে কয়েক বছর কাজ করার পর ছুটি (লিয়েন) নিয়ে জাতিসংঘের একটি দপ্তরে যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন সেখানেই কাজ করেন তিনি। এরপর হঠাৎ ২০০১ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খলিলের প্রত্যাবর্তন ঘটে দেশে। তখন প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমান।

তাকে কেন হঠাৎ করে দেশে আনা হলো? সাংবাদিক হিসেবে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আরশাদ জানতে পারেন, লতিফুর রহমানের ভায়রা ভাই তিনি। তাই দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব বানানো হয়। কিন্তু পদটি যেহেতু যুগ্ম সচিব পর্যায়ের। সেজন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুটি পদোন্নতি দেওয়া হয় তাকে।

২০২৫ সালের জুন মাসে তারেক রহমান ও মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান, পাশে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

খলিল সম্পর্কে তার সাবেক এক সহকর্মীর বক্তব্য তুলে ধরে আরশাদ মাহমুদ লেখেন, “তিনি এক সময় খলিলের সঙ্গে নিউ ইয়র্কে চাকরি করতেন। আমি খলিল সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমেই বললেন সে প্রথম শ্রেণীর ধান্দাবাজ এবং নিজের আখের গোছানোর জন্য যা করা প্রয়োজন, সে সবই করে।”

২০০১ সালে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে নিয়োগ পাওয়ার মাস খানেকের মধ্যেই সচিবালয়ের এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে খলিলের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কথা তুলে ধরেন আরশাদ মাহমুদ। তার ভাষ্যে, “খলিল ওই মহিলাকে আরো নিবিড়ভাবে পাওয়ার জন্য নিউ ইয়র্ক মিশনে তাকে বদলির ব্যবস্থা করে। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ তিন মাসের পর খলিলও নিউ ইয়র্কে চলে যাবে। এতে ঘোর আপত্তি জানায় মহিলার স্বামী এবং এটা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হত। যখন মহিলা দৃঢ়ভাবে জানায় সে নিউ ইয়র্কে চলে যাবে, তখন তার স্বামীর সঙ্গে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তার স্বামী মহিলাকে গুলি করে এবং নিজে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনার পরপরই খলিল দ্রুত দেশ থেকে পালিয়ে যায়।”

খলিলুর রহমানের বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে বলে কথা আসার পর তাকে নিয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে ‘রজার রহমান’ নামে একটি ফেইসবুক আইডি পাওয়া যায়। ওই আইডির পোস্ট-ছবি, মন্তব্য, তার জবাব বিশ্লেষণ করে ভারতের নর্থ ইস্ট নিউজ দেখিয়েছে, সেটি খলিলেরই আইডি। নর্থ ইস্ট নিউজ দাবি করেছে, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে টানা অবস্থান করে আসছিলেন খলিল। তিনি রজার রহমান নামে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব নেন। এমনকি এই নামে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরিতেও নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নামি বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডের কেনেডি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন বলে খলিল দাবি করেন। এনিয়ে খোঁজ চালিয়ে জুলকারনাইন শায়ের ফেইসবুকে লেখেন, “শুইন‍্যেছিলাম ভদ্রলোক নাকি কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট হার্ভার্ডের থিকা এম এ ইন ল‍্য এন্ড ডিপ্লোমেসি কইরেছেন। কিন্তু কোথাও তো এমন কিছু খুঁজে পেলুম না। খলিলুর রহমান সাহেব, আপনি কি মিছা কথা কইছেন? হার্ভার্ডের সার্টিফিকেটটা একটু দেখাইবেন পিলিজ? আমরা খুইজ‍্যে ওবামা আর তার বাপরেও বাইর কইরেছি, কিন্তু আপনারে পেলুম না কেনে?”

হার্ভার্ডের অ্যালামনাই ডেটাবেজে খলিল নামে কেউ নেই জানিয়ে শায়ের লিখেছেন, হার্ভার্ডের সঙ্গে এমআইটি, টাফট ইউনিভার্সিটির ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসির চুক্তি রয়েছে। তার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা একটি অন্যটির কোনও কোর্স নিতে পারে। এর আওতায় হয়ত খলিল হার্ভার্ডে গুটিকয়েক ক্লাস করেছেন। তবে তিনি কোনোভাবেই হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট নন।

তারেক রহমানের সরকারে কে কী

তারেক রহমান তার সরকারে পূর্ণ মন্ত্রী করেছেন ২৫ জনকে। তাদের মধ্যে খলিল ছাড়া রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, ভূমি মন্ত্রণালয়ে মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিতাই রায় চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে জহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়ে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন (টেকনোক্র্যাট), বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আফরোজা খানম (রিতা), পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আসাদুল হাবিব দুলু, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জাকারিয়া তাহের সুমন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দীপেন দেওয়ান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ফকির মাহবুব আনাম, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌ মন্ত্রণালয়ে শেখ রবিউল আলম।

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে মো. শরিফুল আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শামা ওবায়েদ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ভূমি মন্ত্রণালয়ে কায়সার কামাল, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌ মন্ত্রণালয়ে রাজীব আহসান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে মো. আব্দুল বারী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে মীর শাহে আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জোনায়েদ সাকি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ইশরাক হোসেন,

মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ফারজানা শারমিন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে শেখ ফরিদুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মো. নুরুল হক নুর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে এম ইকবাল হোসেইন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এম এ মুহিত, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ববি হাজ্জাজ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

এ সম্পর্কিত আরও খবর:

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads