মিয়ানমারের ভূমিকম্প ৩৩৪টি পরমাণু বোমা বিস্ফোরণের সমান!

Earthquake-1

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে যে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়েছে তা ৩৩৪টি পরমাণু বোমার শক্তির সমান বলে দাবি করেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিকরা এমনই দাবি করেছেন। শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা ১৬শ’ ছাড়িয়েছে। আহতদের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার।

শুক্রবার সকালে কেঁপে ওঠে মিয়ানমার। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৭। উৎপত্তিস্থল দেশটির সাগাইং শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। সেই সময় কম্পন অনুভূত হয় বাংলাদেশের ঢাকা-সহ একাধিক জায়গায়। এর প্রভাব পড়ে ভারতেও। এছাড়া ভূমিকম্পের ব্যাপক প্রভাব পড়ে মিয়ানমারের প্রতিবেশী থাইল্যান্ডেও। ভেঙে পড়ে একের পর এক বহুতল, ব্রিজ।

প্রথম ভূমিকম্পের কয়েক মিনিটের মধ্যে ফের কম্পন অনুভূত হয়। সেই ‘আফটারশকে’র মাত্রা ছিল ৬.৭। এরপরও চলতে থাকে একের পর এক আফটারশক।

মার্কিন ভূবিজ্ঞানী জেস ফিনিক্স মিয়ানমারকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, ভূপৃষ্ঠের নিচে ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে ভারতীয় প্লেটের সংঘর্ষ যেহেতু অব্যাহত রয়েছে, তাই আগামী কয়েক মাস ধরেই ‘আফটারশক’ চলতেই থাকবে।

শক্তিশালী ভূমিম্পের ব্যাখ্যা করেছেন ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিস্‌মোলজির ডিরেক্টর ওমপ্রকাশ মিশ্র। পরিবেশ বিষয়ক সাময়িকপত্র ‘ডাউন টু আর্থ’-কে একটি সাক্ষাৎকারে মিয়ানমারের অবস্থান এবং ভূমিকম্পের খুঁটিনাটি জানিয়েছেন তিনি।

ওমপ্রকাশ জানিয়েছেন, মিয়ানমারে ভূমিকম্পের নেপথ্যে রয়েছে সাগাইং ফল্ট। সাধারণত, ভূত্বকের মধ্যেকার ফাটলকে ভূবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ফল্ট’ বলা হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, “মিয়ানমারের সাগাইং প্রদেশের নীচে ভূত্বকে যে ফাটল রয়েছে, তা ১২০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ। একেই সাগাইং ফল্ট বলা হয়ে থাকে। চওড়ায় এই ফাটলটি প্রায় ১০০ কিলোমিটার। ভূত্বকের এই ধরনের ফাটল সাধারণত ভূমিকম্পের জন্ম দেয়। এই অংশে দু’টি পাথুরে পাত একে অপরের সাপেক্ষে চলাচল করতে পারে।”

সাগাইং ফল্টে এর আগেও একাধিক জোরালো ভূমিকম্প হয়েছে, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭-এর বেশি।

উদাহরণ হিসাবে ১৯১২, ১৯৪৬, ১৯৫৬ এবং ১৯৯১ সালের ভূমিকম্পের কথা বলেছেন ওমপ্রকাশ। প্রতি ক্ষেত্রেই কম্পনের মাত্রা ৭-এর উপরে ছিল।

১৯৪৬ সালের দু’টি ভূমিকম্প ছিল সবচেয়ে জোরালো— ৭.৮ এবং ৭.৯। শুক্রবার মায়ানমারের যে অংশে ভূমিকম্পের উৎপত্তি, ১৯১২ এবং ১৯৫৬ সালের ভূমিকম্পের উৎস তার খুব কাছে ছিল।

ওমপ্রকাশের ভাষ্য, ‘‘সাগাইং ফল্টই মিয়ানমারে ভূমিকম্পের কারণ। এর বিভিন্ন অংশে প্রচুর পরিমাণে ভূকম্পীয় শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। শুক্রবারের কম্পনের ফলে এই ফাটল আরও কয়েক কিলোমিটার বেড়ে গিয়েছে। যে কারণে ব্যাঙ্কক পর্যন্ত কম্পন এত জোরালো হয়েছে।’’

‘‘মিয়ানমার এমন একটি জায়গায় রয়েছে, যা মোট চারটি টেকটনিক প্লেট বা ভূকম্পীয় পাতের সংযোগস্থল। উত্তরে রয়েছে ভারতীয় পেল্ট এবং ইউরেশীয় প্লেট। ভারতীয় প্লেট ক্রমশ আরও উত্তরে এগিয়ে ইউরেশীয় পাতের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। ইউরেশীয় প্লেটের একটি ছোট অংশ আলাদা হয়ে বর্মা বা মিয়ানমার প্লেট নাম নিয়েছে। ভারতীয় প্লেটটি আসলে এই প্লেটের নীচে প্রবেশ করছে। এ ছাড়া, সাগাইং ফল্টের ঠিক পূর্বে রয়েছে সুন্ডা প্লেট। ভারত এবং সুন্ডা পাত আনুভূমিক ভাবে একে অপরের দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে প্রচুর পরিমাণ শক্তি নির্গত হচ্ছে।’’ যোগ করেন ওমপ্রকাশ।

এর আগে মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের নেপথ্যে এই সাগাইং ফল্ট ছিল বলে জানিয়েছেন ওমপ্রকাশ।

তবে নব্বইয়ের দশকের পর থেকে এমন ভূমিকম্প এই অঞ্চলে হয়নি।

তার কথায়, ‘‘নব্বইয়ের দশকের পর থেকে মিয়ানমার অঞ্চলে এত বড় ভূমিকম্প হয়নি। হতে পারে, সাগাইং ফল্ট আবার নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।’’

তা যদি হয়, তবে এই অংশে আরও ঘন ঘন ভূমিকম্প হতে পারে।

আরও পড়ুন