জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বর্তমান উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে তুলে নিয়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর ডিজিএফআইয়ের টর্চারসেল বা আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে গিয়ে ডিজিএফআইয়ের সেই দুই টর্চারসেল চিনতে পারার কথা জানান নাহিদ ও আসিফ।
আয়নাঘর দেখার পর উপদেষ্টা নাহিদ জানান, তাকে যে কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল সেই কক্ষের একপাশে টয়লেট হিসেবে একটি বেসিনের মতো ছিল। ৫ আগস্টের পর এই সেলগুলোর মাঝের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়, দেয়াল রং করা হয়।
আর উপদেষ্টা আসিফ জানান, তিনি দেয়াল দেখে কক্ষটিকে চিনতে পেরেছেন। কক্ষটি আগে অনেক ছোট ছিল, এখন মাঝের দেয়াল ভেঙে বড় করা হয়েছে। ওই কক্ষে তাকে চারদিন আটকে রাখা হয়েছিল।
‘আয়নাঘরে’ ইলেকট্রিক শক দেয়ার চেয়ার আছে। বন্দিদের ইলেক্ট্রিক শক দিতে ব্যবহার হতো এই চেয়ার। এসব প্রমান সিলগালা করে রাখা হবে বলে জানিয়েছে অন্তবর্তী সরকার। যাতে বিচারিক কাজে প্রমান হিসেবে ব্যবহার করা যায়। গোপন এসব বন্দিশালাগুলো আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরা এলাকায় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস গোপন বন্দিশালা দেখতে যান। প্রথমে তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর ডিজিএফআই-এর যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ সেল এবং র্যাব-২ এর সিপিসি-৩ এর ভেতরের সেলগুলো পরিদর্শন করেন। পরে র্যব সদর দপ্তরের টাস্কফোর্স ইন্টেলিজেন্স সেন্টার ঘরে দেখেন।
এসময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকরা সঙ্গে ছিলেন।
বন্দীশালা পরিদর্শন শেষে মুহম্মদ ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, ভুক্তভোগীদের বিনা কারণে, বিনা দোষে উঠিয়ে আনা হতো। সন্ত্রাসী, জঙ্গি বলে এখানে ঢুকিয়ে রাখা হতো। এরকম টর্চার সেলের সংখ্যা ৭০০ থেকে ৮০০ হবে। এসব টর্চার সেলে দুই থেকে তিন হাজারের বেশি মানুষকে বন্দী রাখা হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ প্রতিষ্ঠা করেছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করে অন্তবর্তী সরকার। ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুমের ঘটনা তদন্ত করছে এই কমিশন।
গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জন বিএনপি নেতাকর্মী গুম হয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি। এদিকে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর তথ্য মতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত গুম হয়েছেন অন্তত ৬৭৭ জন।



