আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা, নেতাকর্মীদের ‘জেগে ওঠার’ আহ্বান দিনমজুরদের

পতাকা উত্তোলন করে বঙ্গবন্ধুকে স্যালুট জানান চার-পাঁজজনের দলের ওই দিনমজুররা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
পতাকা উত্তোলন করে বঙ্গবন্ধুকে স্যালুট জানান চার-পাঁজজনের দলের ওই দিনমজুররা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছেন একদল খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের সবাই পেশায় দিনমজুর। এ সময় তাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘স্যালুট’ দিতেও দেখা যায়।

শনিবার দুপুরের ওই ঘটনার একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই চার-পাঁজজনের দলের কেউ দিনমজুর, কেউবা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

গত বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলটির কার্যালয় ছাত্র-জনতার রোষানলে পড়ে। তছনছ করার পর কয়েকদফা আগুন দেওয়া হয় ১০ তলা ভবনটিতে।

এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে এক সময়ের জমজমাট এই ভবনটি। ময়লা আবর্জনার স্তুপে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে গোটা স্থাপনা।

দুপুরের দিকে শুরুতে দিনমজুরদের ওই দল ‘২৩ বঙ্গবন্ধু’ এভিনিউয়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। তাদের সবার পরনে ছিল লুঙ্গির সঙ্গে টি-শার্ট ও শার্ট। হাতে বাঁশের মাথায় লাগানো জাতীয় পতাকা।

তারা যখন বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘স্যালুট’ প্রদর্শন করছিলেন তখনও পেছনে ঝুলছিল ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ লেখা একটি লাল ব্যানার।

ওই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে পতাকা উত্তোলনে অংশ নেওয়া একজনকে কথা বলতে দেখা যায়।

আরেকটি ভিডিওতে পতাকা উত্তোলনে অংশ নেওয়া একজনকে কথা বলতে দেখা যায়।

শুদ্ধ ও অশুদ্ধ বাংলার মিশেলে তিনি বলেন, “আঠার মাস পরে আজকে আমরা আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে পতাকা উত্তোলন করছি। আমরা গর্বিত যে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগরে বুঝিয়ে দিলাম, এখনও আওয়ামী লীগ ঘুমন্ত নাই।”

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমাদেরকে জাগতে হবে। আমরা যদি আজকে চারজন লোক গিয়ে মোকাবেলা করে দিয়ে আইতে পারি, তবে আমরা এক হাজার লোকের শক্তি নিয়া বসবাস করি।

“তাই আওয়ামী লীগের লোকদের বলব, সবাই সবকিছু নিয়ে সর্বদা প্রস্তুত থাকুন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। দেশ আমার, দেশের মানুষ আমার। রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই।”

ঘটনাস্থলের পাশে একজন ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতি ‘স্যালুট’ জানিয়ে তারা পতাকাটি বিদ্যুতের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে চলে যান।

মীর মোশাররফ নামে আরেকজন প্রদক্ষদর্শী বলেন, “যারা আইছিল তারা সবাই খেটে খাওয়া মানুষ। কেউ রিকশা চালায়, কেউ ফুটপাতে ব্যবসা করে, আবার কেউ হকার।”

“তারা আমাকে বলছে, এখন তো আর রাজাকাররা নাই, তারাই এই অফিসে আইলে বাধা দিত। এখন তারা হারছে, তাই আমরা পতাকা উড়াইতে আইছি।”

২০২৫ সালের ১০ মে এক নজিরবিহীন নির্বাহী আদেশে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দলটিকে নিষিদ্ধ করে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।

১৯৮১ সালের দিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা হয়।

পুরনো ভবনটি ভেঙ্গে সেখানে আধুনিক ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হয় ২০১৮ সালে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads