আলোচনায় এক যুগেরও বেশি সময় আগের গান। সোশাল মিডিয়া রীতিমত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে স্ট্রমির (Stromae) ‘পাপাউতে’ (Papaoutai) গানটি, সঙ্গে তো রিমিক্সের বন্যা লেগেই আছে। রিলস স্ক্রল করতেই ঘুরে ফিরে ঢুকে যাচ্ছে এই আবেগঘন গান। ইউটিউবে মূল গায়ক স্ট্রমির গানটি এ পর্যন্ত শোনা হয়েছে এক বিলিয়নেরও বেশি বার।
তবে এআই-এর মাধ্যমে গানটিতে নিজের কণ্ঠ বসিয়ে দিয়ে নতুন করে ভাইরাল হয়েছেন অখ্যাত আরসেন মুকেন্দি (arsene mukendi)।
মূল গানের চেয়ে আরসেন মুকেন্দির এআই কণ্ঠের ‘পাপাউতে’র আবেদন কোন অংশে কম নয়। তার রিমিক্স আর অভিব্যক্তি বিয়োগত্মক ব্যথা যেন কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘অ্যাফ্রো সোলের’ এই রিমিক্স ছেয়ে গেছে ফেইসবুক, ইউটিউব ও টিকটক।
অনেকেই ভাবতে পারেন ‘পাপাউতে’ গানটি ‘ডান্স সং’। বাস্তবতা হলো এই সংক্রামক সুরের পেছনের গল্পটা বিচ্ছেদের। বাবার জন্য ছেলের আর্তনাদ ঝরেছে পুরো গানজুড়ে।
যাই হোক, পেছনের গল্পটা একটু জানিয়ে নিই। বাবা হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়ে (Racine Carrée album 2013) গানটি গেয়েছিলেন বেলজিয়ান গায়ক ও প্রযোজক স্ট্রমি, যার আসল নাম পল ভ্যান হেভেন।
মাত্র ৯ বছর বয়সে জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তের সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৪ সালে রোয়ান্ডার গণহত্যা চলাকালীন পরিবারকে দেখতে গিয়ে তার বাবার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যু গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল স্ট্রমির জীবনে।
২০০৯ সালে তার কণ্ঠে ‘আলোর্স অন ডান্সে’ ১৭টি দেশে সুপারহিট হয়েছিল। এর পরে ২০১০ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘চিস’ মুক্তি পায়।
এতবছর পর সেই জনপ্রিয় পপ গানটি আবারও বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলল। তবে কোনো সাধারণ কভার বা রিমিক্সের মাধ্যমে নয়, বরং প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার অভিনব সংমিশ্রণের মাধ্যমে। Stromae-এর “Papaoutai”-এর নতুন সংস্করণ, “Papaoutai—Afro Soul”, খুব দ্রুতই এ বছরের অন্যতম ভাইরাল গানে পরিণত হয়েছে।
গানটিতে আরসেন মুকেন্দি নিজের কণ্ঠ ক্লোন করে পুরো গানটি এআই-কে গেয়ে নিয়েছেন।
পাপাউতে শিরোনামটি ফরাসি প্রশ্ন “Papa, où t’es?” থেকে নেওয়া, যার অর্থ “বাবা, তুমি কোথায়?” পল ভ্যান হেভেন বা স্ট্রপিমর মা ছিলেন বেলজিয়ান এবং বাবা রুয়ান্ডার নাগরিক। শৈশবে তিনি বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, খুব কম দেখেছেন তার বাবাকে। ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যায় যখন স্ট্রমির বাবা নিহত হন, তখন তার বয়স মাত্র নয় বছর।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বেদনাদায়ক বাস্তবতার কথা তুলেও ধরেছিলেন।
তিনি জানান, তিনি তার বাবার সঙ্গে খুব কমই দেখা করতেন, আর বাবার মৃত্যুর পর তাকে শুধু তার মায়ের কাছেই বড় হতে হয়েছে। ফলে এই গানটি আর শুধু একটি জনপ্রিয় সুর নয়; এটি হয়ে ওঠে হারানোর পর এক মানুষের সংযোগ খোঁজার এবং বোঝার চেষ্টার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
গানের মিউজিক ভিডিওতেও সেই দৃশ্যই ফুটিয়ে তোলা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছোট ছেলে তার বাবার সঙ্গে খেলতে চাইছে, সময় কাটাতে চাইছে। বাবার চরিত্রে স্ট্রমি নিজেই একটি মানুষের আকৃতির ম্যানিকিন হিসেবে উপস্থিত, কিন্তু ছেলেটি যতই চেষ্টা করুক, সেই বাবা কখনোই জীবন্ত হয়ে ওঠে না।
অন্যদিকে, আশপাশের অন্য বাচ্চারা তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে আনন্দে মেতে থাকে। তাদের জীবন হাসি, ভালোবাসা আর সম্পর্কের উষ্ণতায় পূর্ণ।
এসব দৃশ্য আর গানের আকুতিতে বাস্তব হয়ে ধরা দেয় বাবার জন্য অপেক্ষা, তার অনুপস্থিতি আর অনুভবের কথা।



