ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিএনপি মনে করছে, অন্তর্বর্তী সরকার আমলে ‘জাতীয় জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ জারি হলেও তা জারির এখতিয়ারই রাষ্ট্রপতির ছিল না। এখন গণভোট নিয়েও রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ সংসদে পাস না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে বিএনপি। ফলে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটের পরিণতি কী দাঁড়ায়, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধন্দ।
অন্তর্বর্তী সরকার আমলে রাষ্ট্রপতির জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নবগঠিত সংসদের বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই কমিটি সংসদে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তাতে গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ২০টিকে এখনই আইনে রূপ না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন নেতৃত্বাধীন এই কমিটি বাকি ৯৮টি অধ্যাদেশে কোনো পরিবর্তন না এনে হুবহু এবং ১৫টি সংশোধন করে বিল আকারে তোলার সুপারিশ করেছে।
বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেছেন, আগামী সোমবার থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা পর্যায়ক্রমে ১১৩টি বিল সংসদে উত্থাপন করবেন।
বাকি যে ২০টি অধ্যাদেশ বিল আকারে তোলা হবে না, সেগুলোর মধ্যে চারটি বাতিল ও হেফাজতের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ৯ এপ্রিলের মধ্যে এসব বিল পাস করতে হবে। সে হিসেবে সংসদের হাতে থাকবে চারটি কার্যদিবস। যেসব অধ্যাদেশ ৯ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে অনুমোদন হবে না সেগুলোর কার্যকারিতা লোপ পাবে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ পুনরায় বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে আইন না হলে অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারায়।
ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাতে যে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে, তার গুরুত্ব আর কোথায় থাকল?
এর আগে সংবিধান সংস্কার পরিষদও বিএনপি গঠন করেনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দলটির সংসদ সদস্যরা শপথও নেননি। অথচ গণভোটের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি ছিল। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা সেই পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন।
২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক আলোচনার পর ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
একই বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। পরে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না তা যাচাইয়ে ২৫ নভেম্বর গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়। তার ভিত্তিতে গত ১২ই ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
এখন এই প্রশ্নও কেউ কেউ তুলেছেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যে জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করলেন, তার জন্য তাকে অভিশংসনের মুখোমুখি করা হবে কি না? কিংবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যের শপথ পড়ালেন, তার জন্য তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না?
গণভোট প্রশ্নের মুখে
বিএনপির পদক্ষেপে গণভোট স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে দলটির নেতারা যুক্তি দেখাচ্ছেন, গণভোট হয়ে যাওয়ায় অধ্যাদেশটি আর সংসদে তোলার প্রয়োজন নেই।
গত মঙ্গলবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারির এখতিয়ারই রাষ্ট্রপতির ছিল না।
তার ভাষ্যে, “এ আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার দলিল। এটি অবৈধ আদেশ।” গণভোটের অধ্যাদেশকেও ‘জাতীয় প্রতারণার দলিল’ আখ্যায়িত করেন তিনি। তবে জুলাই সনদের যে বিষয়গুলোতে বিএনপি একমত ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতের আমির মো. শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের প্রস্তাব সংসদে তুলেছিলেন, তবে তা গৃহীত হয়নি।
তিনি যুক্তি দেখিয়েছিলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় জনগণ এই বাস্তবায়ন আদেশের পক্ষে রায় দিয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আইনগতভাবে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ-উভয় হিসেবেই শপথ নিতে বাধ্য।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন বিএনপি তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার না রাখায় ভবিষ্যতে তা দেশের রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করবে।
গণভোট অধ্যাদেশটি যখন জারি হয় তখন সেখানে বলা হয়েছিল, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কয়েকটি প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে গণভোটের বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত এ অধ্যাদেশ।
সে কারণে অনেকের মধ্যে এই প্রশ্ন আসছে যে, গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদিত না হলে এর অধীনে হওয়া গণভোট এবং সেই ভোটের ফল বাতিল হয়ে যাবে কি না?
সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘গণভোট আয়োজনে একটি অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। গণভোট হয়েছে। এই অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়েছে। এর কোনো বিরোধিতা নেই। এই অধ্যাদেশকে সংসদে ধারণ করে ভবিষ্যতে ব্যবহার করার আর কিছু নেই।”
বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, ভোটের ফল সরকারি দল বাস্তবায়ন না করলে সেটি এমনিই অকার্যকর হয়ে যায় এবং সে কারণে অধ্যাদেশ অনুমোদিত না হলে ভোটের ফল কী হলো তার কোনো গুরুত্ব থাকে না।
আবার অনেকে মনে করেন, সরকারের একটি আইন বা অধ্যাদেশের আওতায় এর মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যাওয়া কোনো রায় বা জনমতের বৈধতা অকার্যকর হয়ে যায় না। ফলে সরকার বাস্তবায়ন না করলেও এর একটি আইনি ভিত্তি থেকেই যাবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলছেন, বিএনপি জাতীয় সনদের স্বাক্ষর করেছে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, “বিএনপি এখন মনে করছে দুটি নির্বাচনের একটির মূল্য নেই। সেজন্য তারা সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে। কিন্তু এটা সংশোধনের অযোগ্য। সংস্কার মানে সংশোধনী না। সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে এটি বড় সংকটের জন্ম দেবে।”
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য হিসেবে কাজ করে আসা বদিউল আলম মজুমদারও বিবিসি বাংলাকে বলেন, “গণভোট সংবিধানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এখন যা হচ্ছে, সেটি হলো জনরায় উপেক্ষা করা। এর ফলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা ফিরে আসতে পারে এবং এর মাধ্যমে আমরা মানুষের আত্মত্যাগ অস্বীকার করছি, যা গ্রহণযোগ্য নয়।”
সংসদীয় কমিটির সুপারিশে কী আছে
সংসদে এখনই বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১টিতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিরোধী দল।
কমিটির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রহিত করার সুপারিশ পাওয়া চারটির তিনটিই বিচার বিভাগ ও আদালত প্রশাসনের কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে আছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং এর সংশোধনী। অপরটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় অধ্যাদেশ।
বিরোধী দলের আপত্তি না থাকা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আছে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ।
সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে তোলার সুপারিশ পাওয়া ১৫টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে কোথায় কী সংশোধন আনা হবে, তার বিস্তারিত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে আলাদা করে বলা হয়নি। ফলে বিল আকারে সংসদে তোলার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবেই তা স্পষ্ট হবে।
এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশও রয়েছে। আগের আইনের সঙ্গে অধ্যাদেশটিতে নির্দিষ্ট কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যোগ করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল, মিটিং, প্রকাশনাসহ কী কী কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে, তাও যুক্ত করা হয়। অধ্যাদেশটি সংশোধন করে এবার রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পাশাপাশি শাস্তির বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।
কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত আকারেই সংসদে বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করে।
এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন অধ্যাদেশ, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা সংশোধন অধ্যাদেশ, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স সংশোধন অধ্যাদেশ, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন রহিতের অধ্যাদেশ, ওয়াসা সংশোধন অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন অধ্যাদেশ।
এ ছাড়া আছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস সংশোধন অধ্যাদেশ, দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি আইন রহিতের অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ল’ অফিসার্স সংশোধন অধ্যাদেশ, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক সংশোধন অধ্যাদেশ, দ্য এক্সাইজেস অ্যান্ড সল্ট সংশোধন অধ্যাদেশ, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন সংশোধন অধ্যাদেশ, বিভিন্ন একাডেমি, ট্রাস্ট, নভোথিয়েটার ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত একাধিক অধ্যাদেশ এবং পরিত্যক্ত বাড়ি-সংক্রান্ত সংশোধনী।
সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, কোড অব সিভিল প্রোসিডিউর সংশোধন অধ্যাদেশ, গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন অধ্যাদেশ, জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ সংশোধন অধ্যাদেশ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরি সংশোধন অধ্যাদেশ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন অধ্যাদেশ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, অর্থ অধ্যাদেশ, নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ এবং অর্থ-সংক্রান্ত কতিপয় আইন সংশোধন অধ্যাদেশও এর মধ্যে রয়েছে।
এ তালিকার অন্য অধ্যাদেশ হল- প্রোটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ সংশোধন অধ্যাদেশ, আইনগত সহায়তা প্রদান সংশোধন অধ্যাদেশ, কোড অব ক্রিমিনাল প্রোসিডিউর সংশোধন অধ্যাদেশ, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ভোটার তালিকা সংশোধন অধ্যাদেশ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সংশোধন অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংশোধন অধ্যাদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান সংশোধন অধ্যাদেশ, সিভিল কোর্টস সংশোধন অধ্যাদেশ, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল সংশোধন অধ্যাদেশ, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ এবং আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ।
এছাড়া রয়েছে বরিশাল, ময়মনসিংহ, রংপুর, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার দ্বিতীয় সংশোধন অধ্যাদেশ, বৈদেশিক অনুদান স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম রেগুলেশন সংশোধন অধ্যাদেশ, বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, রেজিস্ট্রেশন সংশোধন অধ্যাদেশ, আইনগত সহায়তা প্রদান দ্বিতীয় সংশোধন অধ্যাদেশ, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ।
তালিকায় রয়েছে- জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল রহিতকরণ অধ্যাদেশ, প্রোটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন অধ্যাদেশ, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা সংশোধন অধ্যাদেশ, রেজিস্ট্রেশন দ্বিতীয় সংশোধন অধ্যাদেশ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ গ্যাস সংশোধন অধ্যাদেশ, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস সংশোধন অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন সংশোধন অধ্যাদেশ এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ।
সংশোধনের প্রস্তাব করা ১৫ অধ্যাদেশ
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধন অধ্যাদেশ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংশোধন অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন অধ্যাদেশ, কোড অব ক্রিমিনাল প্রোসিডিউরের দ্বিতীয় সংশোধন, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশ, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা সংশোধন অধ্যাদেশ ও কল্যাণ ট্রাস্ট সংশোধন অধ্যাদেশ।
বিল আনা হচ্ছে না যেগুলোর
বিশেষ কমিটি ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই সংসদে বিল আকারে না এনে পরে আরও যাচাই-বাছাই করে নতুন করে আনার সুপারিশ করেছে।
এ তালিকায় আছে- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত দুই অধ্যাদেশ, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ এবং এর সংশোধনী; ভ্যাট, কাস্টমস ও আয়কর আইনের সংশোধন অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ও তার সংশোধনী, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধন অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি সংশোধন অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ ও তথ্য অধিকার সংশোধন অধ্যাদেশ।
বাতিল ও হেফাজত হবে যে চারটি
জাতীয় সংসদ সচিবালয় অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়ের অন্তর্বর্তী বা বিশেষ কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।



