তসলিমার বই থাকায় বইমেলায় হামলা, প্রকাশককে গ্রেপ্তার

পঞ্জাবী-টুপি পরা দাড়িওয়ালা কিছু লোকজন সব্যসাচী স্টলে গিয়ে জানতে চায় তারা কেন তসলিমা নাসরীনের ‘চুম্বন’ বই প্রকাশ করেছে।
পঞ্জাবী-টুপি পরা দাড়িওয়ালা কিছু লোকজন সব্যসাচী স্টলে গিয়ে জানতে চায় তারা কেন তসলিমা নাসরীনের ‘চুম্বন’ বই প্রকাশ করেছে।

অমর একুশে বইমেলার তসলিমা নাসরীনের বই রাখাকে কেন্দ্র করে একটি স্টলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ওই বইয়ের প্রকাশককে করা হয়েছে লাঞ্ছিত। উত্তেজনার মুখে স্টল বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই প্রকাশককে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের ১২৮ নম্বর সব্যসাচী স্টলে এ হামলা হয়, হামলাকারীদের মাথায় টুপি এবং পরনে ছিল পাজামা-পাঞ্জাবী।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ নয় এমন বই প্রদর্শনে কোনো ধরনের বাধা নেই বই বিক্রেতাদের। তসলিমা নাসরিনও কোনো নিষিদ্ধ লেখিকা নন।

১৯৯২ সালে আলোচিত উপন্যাস ‘লজ্জা’ প্রকাশের পরপরই সেটি নিষিদ্ধ হয় এবং তসলিমা নাসরিনও পেতে থাকেন জীবননাশের হুমকি। বইমেলায় তিনি নিগ্রহের শিকারও হন। এর কিছুদিন পরে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন।

বর্তমানে ইসলামপন্থিদের হুমকির মুখে দেশ ছেড়ে কলকতায় থাকছেন এই লেখিকা।

হামলাকারীরা মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ছিল বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

সোমবার তসলিমা নাসরিনের বই রাখাকে কেন্দ্র করে হওয়া হামলায় বেশিরভাগ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ছিল বলে জানিয়েছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

তারা জানান, পঞ্জাবী-টুপি পরা দাড়িওয়ালা কিছু লোকজন সব্যসাচী স্টলে গিয়ে জানতে চায় তারা কেন তসলিমা নাসরীনের ‘চুম্বন’ বই প্রকাশ করেছে। এসময় বইয়ের প্রকাশক শতাব্দী ভব তাদের জানান, তসলিমার বই প্রকাশে আইনগত কোনো বিধিনিষেধ নেই, প্রকাশ করলে সমস্যা কোথায়?

দুই পক্ষের তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে ওই লোকজন শতাব্দী ভবকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মারতে উদ্যত হয়। শতাব্দী ভবও ‘জয়া বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাদের জবাব দেন।

এক পর্যায়ে জড়ো হওয়া লোকজন শতাব্দী ভবকে মারধর শুরু করলে পুলিশ এসে তাকে রক্ষা করেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পাশাপাশি ‘সব্যসাচী’ নামের ওই স্টলটি বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

হামলার পর সব্যসাচী স্টলটি বন্ধ করে দেয় বইমেলা কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম সাংবাদিকদের জানান, শতাব্দী ভবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হবে।

এর আগে সোমবার দুপুরে প্রকাশক শতাব্দী ভব তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

তাকে বলতে শোনা যায়, “গতরাত থেকে একাধিক ইসলামিস্ট গ্রুপ ও বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের স্টল ভাঙচুরের জন্য উসকানি দিচ্ছিল। একারণে শাহবাগ থানার ওসি, বইমেলার নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং বাংলা একাডেমি কর্তপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু সবাই নিরাপত্তার স্বার্থে তসলিমা নাসরিনের বইগুলো সরিয়ে নিতে বলে।”

“বাংলা একাডেমি ও প্রশাসন যদি না চায় তাহলে তো বই প্রদর্শন করতে পারবো না। অথচ আমাদের নিরাপত্তার দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। বাধ্য হয়ে বইমেলা থেকে তসলিমা নাসরিনের বইগুলো সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছি,” যোগ করেন শতাব্দী ভব।  

সব্যসাচীর আরেক প্রকাশ ও অভিনেত্রী সনজানা মেহেরানও হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

আনন্দবাজার পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, এ বছরও তিনি প্রকাশ করেছেন তসলিসা নাসরিনের ‘চুম্বন’ বইটি। তার পর থেকেই একের পর এক হুমকি আসছে। সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক বার্তায় তার দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads