১০ উপদেষ্টা ও ৪৯ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়ে তারেক রহমানের শুরু

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আঠার মাস আগে আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে সাংবিধানিক কাঠামো যে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল, অবশেষে তার অবসান হলো। বাংলাদেশ পেয়েছে নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদ, ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পর এটি প্রত্যাশিত ছিল পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই হচ্ছেন। মন্ত্রিপরিষদ নিয়েও গত কয়েকদিন ধরে শোনা গিয়েছে বিভিন্ন নাম।

মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর যে মন্ত্রণালয়ের চেহারা দেখা গেল তা বলা চলে অনেকের ধারণার চেয়ে খানিকটা ব্যতিক্রম।

তারুণ্যনির্ভর মন্ত্রিপরিষদে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এ সরকারের আকার দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে, যাদের মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী, আর বাকি ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী।

নতুন সরকারের দায়িত্ব বণ্টনে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। বিএনপির না হয়েও এবং এমপি না হয়েও সেই দায়িত্ব পেয়েছেন খলিলুর রহমান, যিনি মঙ্গলবার বিকালে শপথ অনুষ্ঠানের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন।

সাধারণত বঙ্গভবনে মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হলেও এবার সেই প্রথা ভেঙে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে আয়োজন করা হয় শপথ অনুষ্ঠান।

প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে পদের শপথ ও গোপনতার শপথ পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রীর শপথের পর রাষ্ট্রপতি প্রথমে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং পরে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীকে পদের শপথ ও গোপনতার শপথ পাঠ করান।

এর মধ্য দিয়ে ২০০৬ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা থেকে বিদায়ের প্রায় দুই দশক পর আবারও বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরল বিএনপি। এর আগে সর্বশেষ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে ছিল ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত।

সেই সরকারের অন্যতম অংশীদার এবং দলটির দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এবার বসছে বিরোধী দলের আসনে।

এর আগে বেলা ১১টায় সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় বেঁকে বসে বিরোধীদলের আসনে বসতে যাওয়া জামায়াতে ইসলামী ও তাদের শরিকরা।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশি-বিদেশি অতিথিরা।

বিএনপির এমপিরা যে শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তা অনুষ্ঠান শুরুর আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তারা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই নির্বাচিত হয়েছেন, তাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না।

শুরুতে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এমপিরা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নেন।

সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কথা থাকলেও ত্রয়োদশ নির্বাচনে জয়ীদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিতর্কিত সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি স্বতন্ত্র সাংসদ রুমিন ফারহানা, যিনি নির্বাচনের আগেও বিএনপির রাজনীতিতেই ছিলেন।

তারেকের ১০ উপদেষ্টা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে রেখেছেন নতুন শপথ নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মন্ত্রী পদমর্যাদায় মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদকে।

পূর্ণ মন্ত্রী হলেন যারা

নামমন্ত্রণালয়
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীঅর্থ ও পরিকল্পনা
সালাহউদ্দিন আহমদস্বরাষ্ট্র
ইকবাল হাসান মাহমুদবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়
এ জেড এম জাহিদ হোসেননারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)পররাষ্ট্র
আবদুল আওয়াল মিন্টুপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদধর্ম
মিজানুর রহমান মিনুভূমি
নিতাই রায় চৌধুরীসংস্কৃতি
খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরবাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
আরিফুল হক চৌধুরীশ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান
জহির উদ্দিন স্বপনতথ্য ও সম্প্রচার
মোহাম্মদ আমিন উর রশীদকৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য
আফরোজা খানমবেসামরিক বিমান ও পর্যটন
শহীদ উদ্দীন চৌধুরীপানিসম্পদ
আসাদুল হাবীবদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানআইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়
জাকারিয়া তাহেরগৃহায়ণ ও গণপূর্ত
দীপেন দেওয়ানপার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়
আ ন ম এহসানুল হক মিলনশিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা
ফকির মাহবুব আনামডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
শেখ রবিউল আলমসড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন

প্রতিমন্ত্রীর দাযিত্বে যারা

নামমন্ত্রণালয়
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতবেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
অনিন্দ্য ইসলাম অমিতবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়
শরীফুল আলমবাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
শামা ওবায়েদপররাষ্ট্র
সুলতান সালাউদ্দিনকৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য
কায়সার কামালভূমি
ফরহাদ হোসেন আজাদপানিসম্পদ
আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)যুব ও ক্রীড়া
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনপার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক
হাবিবুর রশিদসড়ক পরিবহন ও সেতু
মো. রাজিব আহসানরেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়
মো. আবদুল বারীজনপ্রশাসন
মীর শাহে আলমস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
মো. জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি)অর্থ ও পরিকল্পনা
ইশরাক হোসেনমুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়
ফারজানা শারমীননারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
শেখ ফরিদুল ইসলামপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও ধর্ম এবং আইন
মো. নুরুল হক নুরশ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
ইয়াসের খান চৌধুরীতথ্য ও সম্প্রচার
এম ইকবাল হোসেইনদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
এম এ মুহিতস্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরগৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
ববি হাজ্জাজশিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামসংস্কৃতিবিষয়ক

এ সম্পর্কিত আরও খবর:

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads