জামায়াতকে বিরোধী দলেই রাখতে চান তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: এএফপি
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: এএফপি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পাবেন বলে আশা করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম-খুনের বিচারসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তারেক রহমান।

১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হবে বলে আশা করছেন ১৭ বছর স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে দলের দায়িত্ব গ্রহণ করা প্রয়াত খালেদা জিয়ার ছেলে।

দীর্ঘদিন লন্ডন থেকে ফেরার পরের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জটা হয়তো কিছুটা খুব সম্ভবত আমারই ছিল। এত বছর পরে এসেছি, আসার পরে মানুষের চোখেমুখে একটা প্রত্যাশা দেখেছি। এটা হলো রাজনৈতিক দিক, অন্যদিকে আসার পাঁচ দিন পরেই আম্মা মারা গেলেন। উনি অসুস্থ ছিলেন অনেক দিন ধরে। স্বাভাবিকভাবে এটাও একটা খুব কষ্টকর বিষয় আমাদের সবার জন্য। আমরা পরিবার যে একসাথে বসে নিজেদের কষ্টটা ভাগ করে নেবো, সেই সুযোগটা বা সময়টা হয়নি।

“কারণ আমরা একদম নির্বাচনের ডামাডোলের ভিতরে। একদিকে নির্বাচনি ডামাডোল অন্যদিকে ব্যক্তিগত বিষয়টা – দুটোর সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, এটাই আসলে আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, হয়তো এই চ্যালেঞ্জটা মোটামুটিভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি আমি।”

আসন্ন নির্বাচনে তরুণ ও প্রথমবার ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেখুন আপনি যদি আমাদের মেনিফেস্টোটা দেখে থাকেন, যেটা আমরা কয়েক দিন আগে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছি, সেখানে কিন্তু আমরা সমাজের তরুণদের জন্য, একইভাবে এখানে বয়স্ক যারা আছেন তাদের জন্য, একই সাথে যারা দেশে চল্লিশ লাখ প্রতিবন্ধী আছেন তাদের জন্য, একই সাথে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক যে নারী, তাদের ক্ষমতায়নের জন্য আমরা পরিকল্পনা রেখেছি। কর্মসূচি রেখেছি, বিশেষ করে শুধু তরুণদের জন্য না, সকলের জন্য৷ কারণ দেশটা গঠন করতে হবে সকলকে নিয়ে।”

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অবশ্যই আমরা যদি দেখি যে এমন কোনো চুক্তি হচ্ছে যেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী, বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী, সেটা যেকোনো দেশের সাথেই হোক না কেন তাদের সাথে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব হবে। কারণ আমি তো প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষকে৷ কাজেই যে কোনো দুই দেশের মধ্যে যদি কোনো চুক্তি হয়, যেটা আমার দেশের স্বার্থের সাথে যাবে না, সেক্ষেত্রে যে কারো সাথেই আমাদের এরকম দূরত্ব হতে পারে।”

ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীনের বাড়তি আগ্রহ নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে যদি আমরা চিন্তা করি আমাদের সাথে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক থাকবে, আমরা একা বসবাস করতে পারব না। গ্লোবাল ভিলেজ বলা হয় এখন পৃথিবীকে। কাজেই আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করবে। আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশে যাবে চাকরিবাকরি বিভিন্ন কারণে। কাজেই আমার দেশের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, দেশের মানুষের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, আমাদের সাথে তাদের সম্পর্ক ভালো হবে।”

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে বিএনপি চেয়ারম্যার বলেন, “আমরা কনফিডেন্ট যে, ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের রায় আমরা পাবো। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হবো – এককভাবে। সেক্ষেত্রে তো কাউকে অপজিশনে থাকতে হবে। কারণ একটা ব্যালেন্সড রাষ্ট্র যদি হতে হয়, ব্যালেন্সড সরকার যদি হতে হয় তাদের সেক্ষেত্রে অপজিশনে থাকতে হবে কাউকে। সবাই সরকারে চলে আসলে কেমন করে দেশ চলবে?”

‘আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেখুন এটা তো পুরো রাজনীতি। আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, মানুষের সমর্থন নিয়ে। কাজেই আমি মনে করি, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না৷ আর যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, যত শক্তিই থাকুক না কেন, শক্তি প্রয়োগ করে সে ধরে রাখতে পারে না, ৫ই অগাস্ট যার উদাহরণ।”

দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “দুর্নীতি এবং ঋণগ্রস্ত বা ব্যাংক ডিফল্ট দুটো ভিন্ন জিনিস। আমাদের দলের লক্ষ নেতাকর্মীর নামে বিগত স্বৈরাচার সরকার কেস দিয়েছিল। আমাদের দলের মধ্যে যারা আছেন, যারা আমাদের দলীয় রাজনীতির সাথে আছে, যারা ব্যবসা বাণিজ্য করে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের ব্যবসা বাণিজ্য চলতে দেয়া হয়নি। তাদেরকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তাদের ন্যায্য ব্যাংক লোন যেটা আছে সেটা তাদেরকে দেওয়া হয়নি। কাজেই এরকম একটি অবস্থার মধ্যে আমাদের লোকজন, আমাদের ব্যবসায়ীরা, আমাদের নেতা কর্মীরা যারা ব্যবসা বাণিজ্য করতেন তাদের জন্য তো এরকম ডিফল্ট হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। দুর্নীতি এবং ডিফল্ট হয়ে যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক তো নেই। দুটো একদম ভিন্ন জিনিস।”

গুম, খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকারদের বিচার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “অবশ্যই, আমাদের পরিকল্পনা আছে, কারণ আমাদের নেতাকর্মীরা যেরকম গুম খুনের শিকার হয়েছে, অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল যারা আমাদের সাথে আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তারা গুম খুনের শিকার হয়েছে। হয়তো সংখ্যা কম বেশি হবে। এমনকি অনেক মানুষ আছেন যারা রাজনীতির সাথে জড়িত না। কিন্তু তারা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে, গুম খুনের শিকার হয়েছে। এটি একটি অন্যায় ব্যাপার। একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে, দেশের মানুষ খুন হয়ে যাবে কিন্তু তার কোনো বিচার হবে না এটা তো হতে পারে না। কাজেই দেশের আইন অনুযায়ী অবশ্যই প্রত্যেকটা মানুষ কারো সাথে যদি অন্যায় হয়ে থাকে তার বিচার পাবার অধিকার আছে।”

এ সম্পর্কিত আরও খবর:

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads