থাইল্যান্ডে ইউনূস-মোদী বৈঠক হচ্ছে না, জানাল ভারত

modi yunus

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক হচ্ছে না।

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর থাইল্যান্ড সফলের সূচি প্রকাশ করেছে। এতে আগামী ৩ এপ্রিল থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। থাইল্যান্ড সফরে এটাই মোদীর একমাত্র দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।

থাইল্যান্ড সফরের ওই সূচিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী যাতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন, সে জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এই অনুরোধ করেছিল ইউনূস সরকার।

সূচিতে বলা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদী বিমসটেকের বৈঠকে যোগ দিতে থাইল্যান্ড যাচ্ছেন ৩ এপ্রিল। পরের দিন তিনি সরকারি সফরে ব্যাংকক থেকে চলে যাবেন শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়কের আমন্ত্রণে মোদি সে দেশ সফর করবেন ৪ থেকে ৬ এপ্রিল।

মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও দুই নেতা মুখোমুখিও হননি। যদিও ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউনূসকে মোদী অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষেও অভিনন্দন জানিয়ে ইউনূসকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইউনূস গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিলেও দুই নেতার মধ্যে মুখোমুখি দেখা হয়নি। মোদী দেশে ফিরে আসার পর ইউনূস নিউইয়র্কে পৌঁছেছিলেন।

তবে এবার দুই রাষ্ট্র নেতা একই আসরে থাকার কারণে দুজনের মধ্যে সৌজন্য বিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই নেতার মধ্যে কিছু আলাপচারিতাও হতে পারে। তবে তা হবে অনানুষ্ঠানিক। শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ। তেমন হলে সেটাও হবে এই দুই প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে প্রথম সাক্ষাৎ।

এরআগে ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী দুইবার স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে সে দেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে।

আর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিবুল আলম ভারতের সংবাদপত্র দ্য হিন্দুকে এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি বলেছেন, অধ্যাপক ইউনূস প্রথম সফরে ভারতেই যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভারতের দিক থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ইউনূস প্রথম সফরে এই মুহূর্তে চীনে রয়েছেন।

২০১৮ সালে বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন বসেছিল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। ২০২২ সালে পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলন হয়েছিল ভার্চুয়্যালি,শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয়। শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এবার ষষ্ঠ সম্মেলন হতে চলেছে ব্যাংককে। এই সম্মেলনেই সংগঠনের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন