জুলাই-আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলনে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের ঘটনায় প্রতিবেদন বুধবার প্রকাশ করবে জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ৪০০ জনের মৃত্যুর তথ্য তারা পেয়েছে।
আর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অর্থাৎ ৫ ও ৬ আগস্ট এই দুই দিনে নিহত হয়েছেন ২৫০ জন।
অবশ্য অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিশেষ সেল ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে নিহতদের প্রথম ধাপের যে তালিকা প্রকাশ করেছিল তাতে ৮২৬ জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্বাস্থ্যবিষয়ক উপ-কমিটি এক হাজার পাঁচশ’ ৮১ জন নিহত হবার দাবি জানিয়ে আসছে।
এক হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, জেনেভার প্যালেই দে নাসিওনে বুধবার বাংলাদেশ সময় আড়াইটায় সংবাদ সম্মেলন করবে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়।
জেনাভায় এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন। তার সঙ্গে থাকবেন এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের প্রধান রোরি মুঙ্গোভেন, মানবাধিকার কর্মকর্তা জ্যোৎস্না পৌড়িয়াল এবং প্রধান মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি।
বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের নিযুক্ত পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল ১৬ সেপ্টেম্বর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করে।
মিশনটি দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর করে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের বিষয়ে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন মানুষজন, গোষ্ঠী ও সংস্থার সঙ্গে কথা বলে।
এরইমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রতিবেদন শেয়ার করেছে মিশন।
এ তথ্য জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে বলেন, এটি একটি স্বাধীন মিশন। তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ থাকতে পারে, বা নাও থাকতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের ঘটনার বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের তদন্ত প্রতিবেদন রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সংস্কারসহ বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করতে তাদের সুপারিশ কার্যকর হতে পারে।”
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন মোট ৬৫০ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে।
এর মধ্যে, ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আর ৫-৬ আগস্টের মধ্যে ২৫০ জন নিহত হন।
অবশ্য নিহতের এই সংখ্যার মধ্যে কতজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, কতজন সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা কতজন আওয়ামী লীগ ও এর অনুসারী সেবিষয়ে পৃথক কোনো সংখ্যা জানায়নি সংস্থাটি।



