বাংলাদেশি পণ্যে ট্রাম্পের শুল্ক: যা বললেন ইউনূসের প্রেস সচিব

shafiqul-alam-status

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত জানানোর পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিভায়েড ফেইসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক পর্যালোচনা করছে।

ইংরেজিতে লেখা পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, “জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দ্রুত শুল্ক যৌক্তিকীকরণের জন্য বিকল্প চিহ্নিত করছে, যা এই বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয়। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আমরা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাজ করে আসছি।”

তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে আমাদের চলমান কাজ শুল্ক সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”

এর আগে ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

নতুন করে উচ্চ মাত্রায় এই শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের ঘোষণা নিয়ে কথা বলেন। ছবি: রয়টার্স।

বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি বাজারের একটি যুক্তরাষ্ট্র। অন্যটি ইউরোপ। দুই বাজারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে বছরে পণ্য রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলারের, যা প্রধানত তৈরি পোশাক।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ ও শ্রীলঙ্কার পণ্যের ওপর ৪৪ শতাংশ  শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ।

অন্য দেশগুলোর মধ্যে কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ, মাদাগাস্কারের পণ্যে ৪৭ শতাংশ, মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যে ৪৬ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, জাপান ও মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যে ২০ শতাংশ, ইসরায়েল ও ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ এবং চিলি, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক ও কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রর প্রেসিডেন্ট।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads