বর্তমান বাংলাদেশে আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে মন্তব্য করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেনাবাহিনীকে ধমক দিতেও কেউ কেউ পিছপা হচ্ছে না।
সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০ টায় এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “দেশে এখন আইনের শাসন নেই, বিচার নেই। যে যার মতো অপরাধ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। জঙ্গি, সন্ত্রাসী, খুনির রাজত্ব চলছে বাংলাদেশে।”
কারো নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “এখন তারা সেনাবাহিনীকে ধমক দেয়। এতো সাহস তারা কোথায় পায়, তাদের সাহস কোথা থেকে আসে?”
গেল বছরের ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ ত্যাগ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তার পর থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি মর্যাদায় ভারতের দিল্লিতে থাকছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
জুলাই-আগস্টে হত্যাকাণ্ডের শিকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের কথা নিয়মিত তুলে ধরা হয় ‘দায়মুক্তি’ নামে ওই অনুষ্ঠানে।
শেখ হাসিনা বলেন, “সুদখোর ইউনূস মানুষের জীবন নিয়ে যে খেলা খেললো, যেভাবে আমাদের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করলো তা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না।”
“একাত্তর সালে পাকিস্তানি বাহিনী গুলি করে মানুষ হত্যা করেছিল, আর ২০২৪ সালে ইউনূস বাহিনী কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে স্বজনহারাদের স্বজনেরা হত্যার বিচার চান শেখ হাসিনার কাছে।
এসময় সবাইকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে হত্যার সব প্রমাণ সেনা ক্যাম্পে জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “আল্লাহ যখন আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, অবশ্যই হত্যাকারীদের বিচার হবে। ওদের দিন ফুরিয়ে আসছে।”
নিহতদের স্বজনেরা শেখ হাসিনাকে জানান, বিএনপি-জামায়াতের হামলার কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘরে থাকতে পারছে না। পুলিশ গ্রেপ্তার করছে। সাজানো বাংলাদেশটা ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।
দেশের শান্তি ফেরাতে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসার অনুরোধ জানান তারা।
জবাবে তাদের আশ্বস্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “অবশ্যই আমি দেশে আসবো। ওই কয়েক গুণ্ডাপাণ্ডাদের কথায় সব শেষ হবে না। দেশের মানুষ আমাদের সাথে আছে, বিশ্ববাসী আমাদের আছে।”
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, “ওরা আওয়ামী লীগকে শেষ করতে চেয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই দেশকে স্বাধীন করেছে। আওয়ামী লীগ শেষ হবে না। ওরাই একদিন শেষ হবে।”
যারা এসব হত্যাকাণ্ড করছে তাদের নাম ঠিকানা লিখে রাখার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “ইউনূস বাহিনী এসব খুনিদের দায়মুক্তি দিয়েছে।”
দায়মুক্তি দিয়ে হত্যাকারীদের বিচারের হাত থেকে বাঁচানো যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আমার বাবা-মাকে হত্যা করা হয়েছিল, তখনও খুনিদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহ আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন, আমি সেসব হত্যাকারীদের বিচার করেছি।
“এবারও আল্লাহর ইশারা আছে, আল্লাহ নিশ্চয় এসব হত্যাকারীদের বিচারের সুযোগ দেবেন।”
তিনি বলেন, নিরাপরাধ মানুষগুলোকে হত্যা করে তারা আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়। আওয়ামী লীগের অপরাধটা কী।
“তারা শহীদের তালিকা করেছে। অথচ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, পুলিশ, আনসার, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিককর্মীই বেশি খুন হয়েছেন।”
ভয় না করে জনগণকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।