দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর সম্মতি যে কারণে লাগবে না

মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ তুরস্ক ও তিউনিসিয়া সহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই বহুবিবাহ নিষিদ্ধ। ছবি: রয়টার্স
মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ তুরস্ক ও তিউনিসিয়া সহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই বহুবিবাহ নিষিদ্ধ। ছবি: রয়টার্স

বাংলাদেশ হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়ে পুনরায় স্পষ্ট করল যে, দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর সরাসরি সম্মতির প্রয়োজন নেই, বরং এটি ‘আরবিট্রেশন কাউন্সিল’ বা সালিশ পরিষদের অনুমতির ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হবে।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারার বিধানকে বৈধ ও সংবিধানসম্মত বলে ঘোষণা করার ফলে নতুন করে এমন বিষয় সামনে এলো।

এতে বলা হয়েছে, বর বা স্বামীকে তার বর্তমান বিবাহের সময়েও, দ্বিতীয় বা পরবর্তী বিয়ে করার জন্য “আরবিট্রেশন কাউন্সিলের” পূর্বানুমতি নিতে হবে।

দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিশ্চিত করার জন্য এক রিট আবেদন করেছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে ওই রিট মামলা করেছিলেন তিনি।

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারা কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সেই মর্মে রুল চাওয়া হয় সেখানে। তবে হাইকোর্ট তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

এর ফলে আইন অনুযায়ী স্বামীর জন্য স্ত্রীর সরাসরি অনুমতির প্রয়োজন আর থাকছে না।

আদালতের রায়ে পূর্বের একটি বিভ্রান্তি স্পষ্ট করা হয়েছে, আর তা হলো- ‘প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নেওয়া আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়’।

বরং ‘সফল দ্বিতীয় বিয়ের জন্য আরবিট্রেশন কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি’ এখন যথেষ্ট।

১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় প্রথমেই বলা হয়েছিল, স্ত্রী/স্বামীর সম্মতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে শাস্তি বা জরিমানা হতে পারে।

পরবর্তীতে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে এর সংশোধন এনে বলা হয়, “দ্বিতীয় বিয়ের আগে ‘সালিশ পরিষদ বা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি’ বাধ্যতামূলক। এতে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি সরাসরি বাধ্যতামূলক নয়।”

দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সালিশ পরিষদে যে আবেদন করতে হয় সেখানে স্বামীকে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে কারণ, প্রয়োজনীয়তা ও স্ত্রীর সম্মতির বিষয়গুলো উল্লেখ করতে হয়। এরপর পরিষদ বিবেচনা করে তার পক্ষে বা বিপক্ষে অনুমতি দেবে বা দেবে না।

এদিকে, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ইশরাত হাসান।

তিনি বলেছেন, ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সালিশ পরিষদে আবেদন করার ক্ষেত্রে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদেরসম্মতি নেওয়া হয়েছে কিনা, তা উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সেখানে বর্তমান স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

“সাধারণভাবে বহুল প্রচারিত ধারণা হল, দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হল, ওই আইনে তা বলা হয়নি। অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে সালিশ পরিষদের ওপর।

“কিন্তু পরিষদ তো প্রভাবিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কীসের ভিত্তিতে কী কারণে পরিষদ দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেবে, সেসব বিষয়ও আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়নি,” যোগ করেন তিনি।

ইশরাত জাহান বলেন, “দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির মত একটা বিষয়কে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের ওপর রেখে দেওয়াকে চ্যালেঞ্জ করে আমি রিট আবেদন করেছিলাম। আবেদন ছিল, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে করতে স্ত্রীর অনুমতি লাগবে।

“রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল দিয়েছিল আদালত। রুল শুনানির পর গত অগাস্টে আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে। ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে।

“এর ফলে মুসলিম পরিবার আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর বর্তমান বিধানই বহাল রইল।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads