ঢাকাসহ সারাদেশে চলমান সাঁড়াশি অভিযানের তৃতীয় দিনে ৬০৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদরদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে জানানো হয়, যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরুর তৃতীয় দিন অর্থাৎ সোম থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ৬০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানে ২টি পিস্তল, ১টি এলজি, ১টি ওয়ান শুটারগান, ১টি পাইপগান, ২টি গুলিসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অপারেশন ডেভিল হান্ট ছাড়াও বিভিন্ন মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৭৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ অভিযান শুরুর পর শনিবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ২ হাজার ২৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর মধ্যে শুধু গাজীপুরে গত তিন দিনে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৪৬ জন, যাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।
এ সম্পর্কিত আরও খবর:
তৃতীয় দিনে গাজীপুরে আরও ৮১ জনকে গ্রেপ্তার
গত শুক্রবার গভীর রাতে গাজীপুরে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করতে গিয়ে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে আহত হন অন্তত ১৪ জন। যাদেরকে পরবর্তীতে নিজেদের কর্মীসমর্থক বলে দাবি করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন।
এ ঘটনার পর শনিবার গাজীপুরে বিক্ষোভ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। তারা আওয়ামী লীগ ও এর অনুসারীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দিয়ে আল্টিমেটাম দেওয়ার পর সিদ্ধান্ত আসে সরকার সারাদেশে অভিযান পরিচালনা করবে।
এছাড়া প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় গাজীপুর সদর থানার ওসিকে।
সরকারিভাবে এই সাঁড়াশি অভিযানকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামে প্রচার করা হলেও কেন এরকম নাম সেবিষয়ে সরকারি কোনো পর্যায়ের স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ৫ ফেব্রুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙা শুরু করে। এরপর বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও দলটির নেতাদের বাড়িতে হামলা চালায়।
পরবর্তীতে এসব ঘটনায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজ থেকে দেওয়া হয় বার্তা- কঠিন হাতে এসব কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করা হবে।
অবশ্য এরপরও বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত ছিল হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ।



