বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার ‘অপরাধে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে শাহবাগ থানার সামনে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার ভোররাতে বুয়েটের হলে সেহরি করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন তিনি।
আহত শিক্ষার্থীর নাম পাভেল বলে ফেইসবুকে ছবি পোস্ট করে অনেকেই জানিয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ সেশনের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী।
একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি বুয়েটের নজরুল হলের ক্যান্টিনে সেহরি করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি মারধরের শিকার হয়েছেন।
হামলাকারীদের বেশ কয়েকজনকে পাভেল চিনতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন।
এদের মধ্যে দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভ, সামাজিকবিজ্ঞান বিভাগের একই সেশনের হাসিব আল ইসলাম, আবরার ও সাইফুল্লাহসহ কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন আহত শিক্ষার্থী। তারা সবাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মী।

তিনি বলেন, “তারা মব করে আমাকে অনেকক্ষণ ধরে পিটিয়েছে। যখন দেখেছে আমার অবস্থা খারাপ তখন থানার সামনে ফেলে গিয়েছে। আমার মোবাইল, মানিব্যাগ, বাইকসহ যা ছিল সব ওরা নিয়ে গেছে। আপনারা চাইলে সিসিটিভি চেক করে দেখতে পারেন।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেছেন পাভেল।
স্বাধীনতার স্থপতির এই ভাষণই ছিল স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা। এই ভাষণের ধারায় আসে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের পর পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে জন্ম হয় বাংলাদেশের।
একদিন আগেই ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর জের ধরে শাহবাগ থানার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে। এছাড়া শ্রদ্ধা জানাতে ফুল নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও চারজন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় বসে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বঙ্গবন্ধুর নাম সব কিছু থেকে মুছে ফেলার কাজটি অনেকটাই সেরে ফেলে। নির্বাচনের মধ্যদিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পরও সেই ধারাই চলছে।
থানার সামনে দুই পা বিছিয়ে একটি গাছে হেলান দেওয়া অবস্থায় আহত ওই শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত ছবি ‘দ্য রেড জুলাই’ নামের একটি পেজ থেকে শেয়ার করা হয় সেহরির সময়।
ওই ছবির উপরে লেখা ছিল: “থানায় না দিয়ে গাছের সাথে বেধে রাখলে বেশি ভালো হইতো…? আজকে লীগ দিয়ে সেহেরী সম্পন্ন হলো। একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলা ভর…!”
এর নিচেই ইংরেজিতে লেখা: “নো কম্প্রোমাইজ উইথ বিএএল। রাইট নাউ, ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা।”
দ্য রেড জুলাই নামে ওই পেজে ২৯৬ হাজারের বেশি ফলোয়ার রয়েছে। পেজের প্রোফাইলে ‘ছত্রিশ জুলাই’ লেখা একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীকে মারধরের ওই ঘটনা সকালে ভাইরাল হলে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে। অনেকেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের দ্য রেড জুলাইয়ের পোস্টটির একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে লিখেছেন, “ছেলেটা আজ রাতে সেহরি খেতে যায় বুয়েটের হলে। গতকাল রাতে ৭ই মার্চের ভাষণ পোস্ট করার খেসারত হিসেবে কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি তাঁকে পিটিয়ে শাহবাগ থানায় ফেলে গেছে।”
এ ঘটনাকে অসভ্যতা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি আরও লিখেছেন, “অসভ্যতা তো অনেক হয়েছে, এসব থামাতে হবে এখনই। একইসাথে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের অবশ্যই খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
মারধরের শিকার ওই ছাত্র নিজে ছাত্র পড়িয়ে পরিবারকে সহায়তা করে এবং তার বাবাও বেঁচে নেই বলে জানিয়েছেন সায়ের।
এ সম্পর্কিত আরও খবর:



