নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেব না : অন্তর্বর্তী প্রধান সুশীলা কারকি

নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধান সুশীলা কারকি। ফাইল ছবি
নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধান সুশীলা কারকি। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি বলেছেন, নেপালকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের পথে হাঁটতে দেওয়া হবে না।

গত ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে দেওয়া ওই মন্তব্য সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশেও এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।

বেশিরভাগই বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করছেন।

তারা বলছেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়ার দায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না; এখন প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছেও বাংলাদেশের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে অন্তর্বর্তী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে ফ্রান্স থেকে উড়ে আসেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। সমালোচনা রয়েছে, ক্ষমতা পেয়ে তিনি দেশকে স্থিতিশীলতার পথে পরিচালিত করার বদলে বিগত সরকার প্রধানের সঙ্গে তার শত্রুতাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। ফলে দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সুশীলা কারকি বলেন, “আমি বলতে চাই, আমরা নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেব না। আমরা এখানে বাংলাদেশ চাই না। কেন? কারণ নেপালিরা সারাজীবন কষ্ট ভোগ করে গেছে। তারা অনেক কষ্ট করেছে। নেপালিরা উন্নয়ন করতে পারেনি। হয়তো তারা পরিবর্তনের সুযোগ পায়নি।”

ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে ঘিরে চলমান সমালোচনা ও পরিস্থিতিকে “হঠাৎ উদ্ভূত” ও “অপ্রত্যাশিত” বলেও মন্তব্য করেন।

সুশীলা কারকি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে একটি ‘আকস্মিক ঝড়ের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের কঠোর সমালোচনা করছে; কেউ কেউ প্রতিদিন সরকার ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে। জেন-জি তরুণেরাও প্রতিদিন বলছে- আজ ছাড়ো, কাল ছাড়ো। কিন্তু সরকার ছাড়ার অর্থ কী?

“তাহলে এই পরিস্থিতিতে যদি এখনও অচলাবস্থা থাকে, তাহলে কী হবে? তাই আমি বলতে চাই, নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেওয়া উচিত হবে না,” যোগ করেন তিনি।

ওই অনুষ্ঠানে তিনি নেপালের বর্তমান সরকারের ওপর রাজনৈতিক দল ও তরুণ প্রজন্মের ক্রমাগত চাপের কঠোর সমালোচনা করেন।

সুশীলা কারকি বলেন, তরুণ সমাজ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে ক্রমাগত কটুকথা ও গালিগালাজ শুনছি। 

“আমরা যদি পরদিনই সরে যেতাম, তখন আবার তারাই বলবে- ‘আপনারা সুযোগ পেয়েছিলেন, এখন পালিয়ে যাচ্ছেন।’ আমরা যেন পেন্ডুলামের মতো অবস্থায় আছি। কঠোর পরিশ্রম করছি, সব কষ্ট ধৈর্যের সঙ্গে সহ্য করছি।”

তিনি আরও বলেন, তরুণদের মধ্যে ক্রমেই হতাশা বাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছে, আদৌ নির্বাচনের প্রয়োজন আছে কি না।

সাংবাদিকদের প্রতি বর্তমান সরকারের ভুলত্রুটি নিয়ে লেখার আহ্বান জানিয়ে সুশীলা কারকি বলেন, “আমাদের বিষয়েও লিখুন। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন জেন-জি তরুণ আছে, প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন দাবি নিয়ে আসে। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ- নেপালকে বাংলাদেশে পরিণত হতে দেব না। আমরা বাংলাদেশ হতে চাই না।”

বক্তব্যের শেষদিকে নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধান বলেন, বর্তমান অবস্থায় তারা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে আছেন, যেখানে কোথাও গিয়েই স্বস্তি বা আনন্দ পাওয়া যাচ্ছে না।

“আমার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি নেপালিদের মধ্যে একটি বিষয়ই দেখেছি- যারা সংসদে এমপি হিসেবে আসে, তাদের অবশ্যই সৎ হতে হবে। তাদের অবশ্যই সৎ এমপি হতে হবে। এখন আমি এটুকু বলতে চাই: আপনি বেঁচে থাকার সময় এটাই ঘটেছে, আর অন্যরা বেঁচে না থাকলেও এটাই ঘটেছে। আমি কোনো ভালো ধারা দেখিনি। যে ধারায় একটি দেশ চলা উচিত, সেই ধারা এখন আমি দেখছি না।

“যদি এতে কোনো পরিবর্তন না আসে, তাহলে আমি মনে করি না এই পরিস্থিতিতে দেশটি সঠিকভাবে চলতে পারবে,” যোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads