সিলেটের বিয়ানীবাজারে কথিত ‘তৌহিদী জনতার’ হুমকি উপেক্ষা করে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। এদিন সুনাই নদীর নদীর তীরে নেমেছিল মানুষের ঢল।
শুক্রবার বিকালে এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, পূর্বনির্ধারিত সময়েই প্রতিযোগিতা হয়েছে। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী।
লাউতা ইউনিয়নে বহু বছর ধরে চলে আসা এ প্রতিযোগিতায় এবারই প্রথম আপত্তির মুখে পড়েন আয়োজকরা।
তাদের অভিযোগ, কথিত ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে একটি গোষ্ঠী ফেইসবুকে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়ে পোস্ট করে। এছাড়া বারইগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে সভা করে কয়েকজন প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছিল।
পরে শনিবার রাতে বারইগ্রাম বাজারের পূবালী ব্যাংক পিএলসি ভবনের নিচতলায় এ বিষয়ে একটি বৈঠক হয়। এতে লাউতা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের যুবক, মুরব্বি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বৈঠকে নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে তৈরি পরিস্থিতি, স্থানীয়দের মতামত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা এড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। আয়োজকদের দাবি, বৈঠকে ‘তৌহিদী জনতার’ কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
শুক্রবার দুপুরের পর থেকে সুনাই নদীর দুই পাড়ে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নদীর পাড়ে অবস্থান করেন।
বিকালে নানা রঙে সাজানো নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ ও ‘পাগলা নাও’সহ বিভিন্ন নামের নৌকা অংশ নেয়।
বাইচের সময় মাঝি-মাল্লারা গান গেয়ে প্রতিযোগিতায় উৎসবের আমেজ তৈরি করেন।



