যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে প্রবাসী বাঙালিদের অংশগ্রহণে উদ্যাপিত হলো শারদীয় দুর্গোৎসব।
বেঙ্গলি পূজা অ্যাসোসিয়েশন অব মেমফিসের (Bengali Puja Association of Memphis—BPAM) উদ্যোগে ২৪ ও ২৫ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
মেমফিসের পার্শ্ববর্তী বার্টলেট এলাকার রায়না প্লাজার আল-আকসা ব্যাংকুয়েট হলে পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, সংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজিত হয় এবারের দুর্গাপূজা।
বর্ণিল সাজে সজ্জিত পূজামণ্ডপে শোভা পায় দেবী দুর্গা ও তাঁর সন্তানদের প্রতিমা। ফুলের মালা, নানা রঙের সাজসজ্জা এবং পূজার নৈবেদ্যে মণ্ডপজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। পূজার পাশাপাশি প্রবাসী বাঙালিদের পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ ও আনন্দ ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হয় এ আয়োজনে।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর, সকাল ১০টায় পূজার আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রথম দিনের কর্মসূচি। পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও মধ্যাহ্নভোজের পাশাপাশি সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যা আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাতের সংগীতানুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন সংগীতশিল্পী সিসপিয়া ব্যানার্জি।
রোববার, ২৫ অক্টোবর, দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় মহা নবমী ও মহা দশমীর পূজা। এদিন প্রসাদ বিতরণ ও মধ্যাহ্নভোজের পাশাপাশি বিকেলে সিঁদুরখেলা ও বিসর্জনের কর্মসূচি রাখা হয়। সিঁদুরখেলা ও দেবীকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
প্রবাসে বাঙালির প্রাণের উৎসব
প্রবাসে যেকোনো উৎসবই বাঙালিদের আবেগ, ঐতিহ্য ও মিলনের ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়, সেটি ধর্মীয় হোক বা জাতীয় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানগুলোতে দেখা মেলে সব ধর্মের মানুষের উপস্থিতি।
দেশ থেকে বহু দূরে বসবাস করলেও প্রবাসী বাঙালিরা প্রতিবারই শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে নিজেদের শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে এগিয়ে নেন। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে একত্র হওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালি সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয় এ উৎসবে।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অজয় কর্মকার বলেন, “প্রবাসে বাঙালির ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখা এবং সবাইকে একত্রিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।”

সমন্বয়ক ও অন্যতম আয়োজক শুভ্রা চৌধুরী বলেন, “মেমফিসের বাঙালি পরিবারগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণে দুর্গাপূজা আনন্দ, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের একটি বিশেষ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।”
“এমন আয়োজন প্রবাসী সমাজের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করে,” যোগ করেন তিনি।
বিজয়া দশমী দুর্গোৎসবের আনন্দের পাশাপাশি বিদায়ের বেদনাও নিয়ে আসে। সিঁদুরখেলা, প্রণাম ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা মূলত অশুভের বিনাশ, শুভশক্তির জয় এবং শান্তি ও কল্যাণের প্রতিষ্ঠা। সেই বার্তাকে হৃদয়ে ধারণ করে প্রবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বী বাঙালিরা নতুন আশায় অপেক্ষা করেন আরেকটি শরতের, আরেকটি দুর্গোৎসবের।



