মিনহাজুল-আকরামদের সভায় কোয়াবের কমিটি বাতিল

সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটারদের নিজস্ব উদ‍্যোগের মিটিংয়ে বাতিল করে দেওয়া হলো নাঈমুর রহমান, দেবব্রত পালের নেতৃত্বাধীন কমিটি।
সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটারদের নিজস্ব উদ‍্যোগের মিটিংয়ে বাতিল করে দেওয়া হলো নাঈমুর রহমান, দেবব্রত পালের নেতৃত্বাধীন কমিটি।

বিস্ময়কর ঘটনা ঘটল বাংলাদেশের ক্রিকেটে। সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের নিজস্ব উদ‍্যোগের মিটিংয়ে বাতিল করে দেওয়া হলো ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ‍্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা কোয়াবের কমিটি! এর মধ‍্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এই সংগঠনে নাইমুর রহমান ও দেবব্রত পালের প্রায় এক যুগের নেতৃত্বের সমাপ্তি ঘটল।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হলো ১৩ সদস‍্যের অ‍্যাডহক কমিটি। যার প্রধান সাবেক ক্রিকেটার সেলিম শাহেদ।

২০১৪ সালের অনানুষ্ঠানিক বার্ষিক সাধারণ সভা- এজিএমের পর থেকে কোয়াবের নেতৃত্ব ছিলেন নাইমুর ও দেবব্রত। 

গত অগাস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একরকম আত্মগোপনে আছেন নাইমুর। গত ৭-৮ মাসে দেশের ক্রিকেটে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি সাবেক অধিনায়ক ও আওয়ামী লিগের সাবেক সংসদ সদস্যকে। এই সময়ে হওয়া কোয়াবের ‘একাধিক’ সভায় অনুপস্থিত ছিলেন দুর্জয়। তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সভাপতির পদ হারিয়েছেন তিনি।

সভাপতিহীন কোয়াবের অচলাবস্থা নিরসনে সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটারদের নিয়ে বসার উদ্যোগ নেন সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন। রোববার মিরপুর জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে বৈঠকে মিনহাজুল ছাড়াও ছিলেন আকরাম খান, হাবিবুল, খালেদ মাসুদ, জাভেদ ওমর, সানোয়ার হোসেনের মতো সাবেক ক্রিকেটাররা। 

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের অনুশীলন শেষে যোগ দেন তামিম ইকবাল, শান্ত, সোহান, ফরহাদ রেজা, নাঈম, জিয়াউর রহমানের মতো এখনও খেলে যাওয়া ক্রিকেটাররা। এর আগেও একাধিক বৈঠক করেন তারা।

বৈঠক শেষে ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হিসেবে গণমাধ‍্যমের মুখোমুখি হয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের কথা জানান কোয়াব সদস্য আকরাম খান। পরে এই কমিটির কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা দেন সেলিম শাহেদ।

“যে কোনো কিছুরই একটা প্রক্রিয়া আছে। আমাদের প্রথম বিষয়টা হলো (কোয়াবের) গঠনতন্ত্রকে একটা কাঠামোর মধ্যে ফেলতে হবে। সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ী যেন সবকিছু চলে। তাই আমরা সিস্টেমটা তৈরি করার চেষ্টা করব, গঠনতন্ত্র আপডেটের চেষ্টা করব। কারা ভোটার, সেটাও সুষ্ঠু নীতিমালা নেই।” 

“আমরা যেন একটা নীতিমালা তৈরি করতে পারি পরবর্তী নির্বাচনের জন্য। এটা করতে ৩ মাস লাগতে পারে, ৬ মাসও লাগতে পারে। যতদিনই লাগুক, আমরা যেন জিনিসটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। এরপর নির্বাচন দেওয়াই আমাদের পরিকল্পনা।”

এসময় নাইমুর ও দেবব্রতর নেতৃত্বাধীন কমিটি বিলুপ্তের প্রেক্ষাপটও জানান সেলিম শাহেদ।

“মূলত তিনি (দুর্জয়) কয়েকটি সভায় ছিলেন না। যে কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি অফ হয়ে যান। আরেকটা বড় জিনিস, আমাদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আগের যে কমিটি ছিল, সেটা বিলুপ্ত। আর বিলুপ্ত করে আমরা অ্যাডহক কমিটি করেছি। যেন আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারি। এজন্য প্রথম হচ্ছে, গঠনতন্ত্র ঠিক করা। দ্বিতীয়ত প্রক্রিয়া ঠিক রাখা। তৃতীয়ত নির্বাচনের যে নীতিমালা, সেটা ঠিক করে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া।”


“(কোয়াবের) গত কমিটিতে যারা ছিলেন, বেশিরভাগই নিষ্ক্রিয় ছিলেন। প্রেসিডেন্ট (দুর্জয়) পদত্যাগ করেছেন এবং সেক্রেটারি দেবব্রত পাল, তিনিও নিজ থেকে মেনে নিয়েছেন এই পদে থাকছেন না। তাই আমরা নতুন কমিটির মাধ্যমে নতুন করে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।”


সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে ম্যাচ রেফারি হিসেবে বিসিবিতে কর্মরত সেলিম শাহেদের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন মিনহাজুল আবেদিন, নিয়ামুর রশিদ রাহুল, হাবিবুল বাশার ও কোয়াবের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত। 

এর সঙ্গে ৮ বিভাগের অধিনায়ক হিসেবে অ্যাডহক কমিটিতে আছেন আরাফাত সানি (ঢাকা), ইরফান শুক্কুর (চট্টগ্রাম), নাজমুল হোসেন শান্ত (রাজশাহী), নুরুল হাসান সোহান (খুলনা), মোসাদ্দেক হোসেন (ময়মনসিংহ), জাকির হাসান (সিলেট), কামরুল ইসলাম (বরিশাল) ও নাঈম ইসলাম (রংপুর)। তবে অধিনায়কদের এই তালিকায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন