জাহেদ প্রসঙ্গ: দিল্লির ব্যাখ্যায় খোশ নয় ঢাকা

জাহেদ উর রহমান ও জয়সোয়াল।
জাহেদ উর রহমান ও জয়সোয়াল।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান ১০ দিন আগে হয়রানিতে পড়ে ভারতে না ঢুকে ফিরে এসেছিলেন। তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় ঢাকা, তলব করা হয় বাংলাদেশে ভারতীয় মিশন প্রধানকে।

এই পরিস্থিতি কেন হয়েছিল, তার একটি ব্যাখ্যা গত মঙ্গলবার দিয়েছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রের বরাতে বাসস জানিয়েছে, ঘটনাটি ‘দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক’। ভারতীয় পক্ষ যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সন্তোষজনক নয়।

তিনি বলেন, “কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আগেই যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল যে ডা. জাহেদ উর রহমান ভারত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর জোটের (আইওআরএ) বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। বিষয়টি পূর্বে অবহিত করার পরও দিল্লি বিমানবন্দরে তার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক।”

জুলাই অভ্যুত্থানের পর নাজুক হয়ে পড়া ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক যখন জোড়া লাগি লাগি করছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ দিল্লি বিমানবন্দরে হয়রানিতে পড়েন।

গত ১৪ জুন তিনি ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে নেমেছিলেন। কিন্তু ইমিগ্রেশনে তাকে দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। তখন তিনি ফিরে আসেন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুসারে, ঢাকা থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ইমিগ্রেশন ডেস্কে নিয়ে যান জাহেদকে।

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করানোর পর জাহেদের আঙুলের ছাপ এবং আইরিশ স্ক্যান করেন। তারপর অপেক্ষায় বসিয়ে রাখেন। হাইকমিশনার হামিদুল্লাহ তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন। তখন তাকে জানানো হয়, ভারতের ইমিগ্রেশন বিভাগের নথিতে জাহেদের নাম ‘বারড’ বা ঢুকতে দেওয়া যাবে না, এমন তালিকায় দেখানো হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ঢাকায় যোগাযোগ করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন জাহেদ। দুদিন পর তিনি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, শুরুতে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। পরে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ঢাকায় ফিরে আসেন।

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি ওখানে একজন ব্যক্তি হিসেবে যাইনি। আমি এই সরকার ও রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি। ফলে আমার সঙ্গে সেখানে যা হয়েছে, আমার কাছে মনে হলো আমাদের ইনস্ট্যান্ট একটা প্রতিবাদ হওয়া দরকার। সেই কারণে আসলে আমি ব্যাক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তবে বিভিন্ন সূত্রের খবর, জাহেদ উপদেষ্টা পরিচয়ে গেলেও তিনি সফর করছিলেন সাধারণ পাসপোর্টে, যা জটিলতা তৈরি করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা জাহেদ আশা প্রকাশ করেন, তার এই ঘটনার প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পড়বে না।

তবে ঢাকার পক্ষ থেকে ঠিকই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। পরদিনই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয় ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ানকুমার বঢ়েকে।

ঘটনাটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে টানাপড়েনের মধ্যে মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয় রণধীর জয়সোয়ালকে।

জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ওই উপদেষ্টা ব্যক্তিগত পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে আসেন। সেই পাসপোর্টে সার্ক ভিসা ছিল। ওই পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে তিনি ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের ২৮তম বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন।

জয়সোয়াল বলেন, দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার সফর সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর ইমিগ্রেশন কর্তারা তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতিও দেন। কিন্তু ওই উপদেষ্টা নিজের ইচ্ছায় ঢাকা ফিরে যান।

রণধীর জয়সোয়ালের এই জবাবই নিয়েই বুধবার প্রতিক্রিয়া জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ads