বিজ্ঞাপন

বিএনপিও দেখছে আওয়ামী লীগের ভুত!

ছবি- এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি
ছবি- এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি

২০২৪ সালের আগস্ট মাস, অভ্যুত্থানে কেবল আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটেছে। পুলিশ বাহিনী পড়েছে ভেঙেচুরে। তখন আনসার সদস্যরা নেমেছিলেন আন্দোলনে। তাদের দাবি ছিল, চাকরি স্থায়ীকরণ, নিরাপত্তা এবং তিন বছর পরপর ছয় মাসের বাধ্যতামূলক বিশ্রাম বা রেস্ট প্রথা বাতিল।

ওই বছরের ২৫ আগস্ট আনসার সদস্যরা দল বেঁধে ঢাকায় সচিবালয় ঘেরাও করলে তোলপাড় শুরু হয় মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা আনসার দমনে গিয়ে হেনস্তার মুখেও পড়েছিলেন।

তখন রব তোলা হয়েছিল, আনসারের ছদ্মাবরণে নেমেছে আসলে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। তবে অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে নেতৃত্বশূন্য আওয়ামী লীগ কী করে সামনে আসবে, সেই প্রশ্নটি অনেকের মনেই জেগেছিল।

বিজ্ঞাপন

এরপর বিভিন্ন সময় যে কোনো আন্দোলনে কেউ নামলেও আওয়ামী লীগের জুজুই দেখানো হচ্ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার গিয়ে বিএনপির সরকার এসেছে, তবে তার ধারাবাহিকতাক্ষুণ্ন হয়নি।

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে তৈরি পোশাক শিল্প শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরেও একই কথাই বলা হলো। শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রোববার সকালে বললেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে।

বিকালে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি আরেকটু বাড়িয়ে বললেন, একটি মহল ডিসেম্বরকে সামনে রেখে সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে।

ডিসেম্বরের মাজেজাটা কী, তা মন্ত্রী খোলসা না করলেও এটা বুঝতে কারোই কষ্ট হয় না যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার দিকেই তার ইঙ্গিত।

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে বিক্ষোভরত পোশাক শ্রমিকদের টিয়ার গ্যাস মেরে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

দুই বছর আগে অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। টানা কয়েকটি সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেছেন তিনি।

তার ভাষ্যে, দেশে ফিরলে জেলে যেতে পারেন, হত্যাকাণ্ডের শিকারও হতে পারেন, তবুও তিনি দেশে ফিরতে চান।

তবে কোন প্রক্রিয়ায় তিনি ফিরবেন, সেই বিষয়ে কিছুই স্পষ্ট নয়। বিএনপি সরকারও যে তাকে ফিরিয়ে আনতে খুব আগ্রহী তেমন কোনো ইঙ্গিত নেই; যদিও ভারতকে অনুরোধের কথাই তারা বারবার বলছে।

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরুক বা না ফিরুক, দেশে থাকা আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাতে চাঙা হয়ে উঠেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও দলটির নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের সংখ্যা ও বিস্তারও বাড়ছে।

এরমধ্যেই ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা।

গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার মিরপুর, আশুলিয়া, গাজীপুরের টঙ্গী ও কালিয়াকৈরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। রোববার সেই তারা বিক্ষোভে নামলে পুলিশের সঙ্গে বাধে সংঘর্ষ। মিরপুর ও গাজীপুরের কোনাবাড়িতে পুলিশের গাড়িতে আগুনও দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতিতে সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রমমন্ত্রী। তখন তিনি শ্রমিকদের সড়কে নামানোর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে দাবি করে বলেন, একটা গ্রুপ তাদের ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করছে।

সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে জরুরি বৈঠকে ডাকেন কয়েকজন মন্ত্রীকে। সেই বৈঠকের পর আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা জানেন একটি মহল ডিসেম্বরকে সামনে রেখে চক্রান্ত করছে। সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের লিপ্ত।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত কিছু দিন ধরেই বিভিন্ন সমাবেশে ষড়যন্ত্রের কথা বলে আসছেন। তার তীর আওয়ামী লীগের পাশাপাশি তাদের এক সময়ের জোটসঙ্গী দল জামায়াতের দিকেও। তার ভাষায়, বিতাড়িতদের সঙ্গে মিলেছে গুপ্তরা। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।

বিএনপির মিত্র দলগুলোর নেতারাও একই কথাই বলছেন। কেন বলছেন, তা স্পষ্ট হলো গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসানের কথায়।

পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের পেছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন থাকার দাবি করে তিনি এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ঢাকা শহরে গ্রেনেড ফাটিয়ে ছাত্রলীগ মিছিল করছে! আর আপনারা এদিকে গুতাগুতি করতে থাকেন, লীগ ফিরলে কিন্তু কেউই আস্ত থাকবেন না।’

অর্থাৎ সেই একই ভয় পাচ্ছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। তা হচ্ছে, কী হবে যদি আওয়ামী লীগ ফিরে আসে?

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ

ads
বিজ্ঞাপন