যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে দেশটির লেবার সরকার। বর্তমানে অধিকাংশ কর্মভিসায় যুক্তরাজ্যে পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) পাওয়ার সুযোগ থাকলেও নতুন প্রস্তাবে সেই সময়সীমা ১০ বছর করার পরিকল্পনা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে অপেক্ষার সময় ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
শুধু বসবাসের সময়সীমা পূরণ করলেই যে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ মিলবে তা-ও নয়। বরং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে অবদান, নিয়মিত আয় ও কর প্রদান, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, অপরাধমুক্ত জীবন এবং ব্রিটিশ সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকারের এই পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ (Earned Settlement) বা অবদানের ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাস।
নতুন পরিকল্পনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে। বিশেষ করে যারা ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতে কাজের ভিসায় যুক্তরাজ্যে গেছেন, তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
২০২৬ সালের ১ নভেম্বর প্রকাশিত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ নতুন স্থায়ী বসবাস নীতির বিষয়ে শিগগিরই ঘোষণা দিতে পারেন। সেখানে কিছু কর্মীর জন্য ১৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষার বিধান এবং ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা পরিচর্যা খাতের কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য ছাড় নিয়েও আলোচনা চলছে।
হোম অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া প্রায় এক বছরব্যাপী গণপরামর্শে জমা পড়া দুই লাখেরও বেশি মতামত পর্যালোচনার পর ২ অক্টোবর সোমবার পার্লামেন্টে সরকার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে।
কী পরিবর্তন আসছে?
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে বিভিন্ন ভিসার ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আলাদা সময়সীমা রয়েছে। তবে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মভিসায় সাধারণত পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করা যেত।
লেবার সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে প্রকাশিত অভিবাসনবিষয়ক শ্বেতপত্রে এই ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা তুলে ধরে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘অ্য ফেয়ারার পাথওয়ে টু সেটেলমেন্ট’ শিরোনামে বিস্তারিত প্রস্তাব প্রকাশ করে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য স্থায়ী বসবাসের প্রাথমিক যোগ্যতার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হবে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলে কেউ কেউ পাঁচ বছর বা তারও কম সময়ে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন।
অন্যদিকে, কিছু কম দক্ষতা বা মাঝারি দক্ষতার পেশায় কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সময়সীমা ১৫ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন বসবাস করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাবেন না। তাকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি দেশটির অর্থনীতি, সমাজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ইতিবাচক অবদান রেখেছেন।
সরকারের প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় চারটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বিগত অপরাদের রেকর্ড, সামাজিক সম্পৃক্ততা, অর্থনীতিতে অবদান ও বৈধভাবে বসবাস।
যার অর্থ দাঁড়ায়, নতুন ব্যবস্থায় একজন অভিবাসীর চাকরি, আয়, কর প্রদান, ভাষাগত দক্ষতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড তার স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
কাদের জন্য পাঁচ বছর?
সরকারের প্রস্তাবে সব অভিবাসীর জন্য ১০ বছরের অপেক্ষার কথা বলা হয়নি। বরং যারা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সমাজে বিশেষ অবদান রাখবেন, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী:
- বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার ১৪০ পাউন্ডের বেশি আয়কারী উচ্চ আয়ের পেশাজীবীরা ১০ বছরের মূল সময়সীমা থেকে সাত বছর ছাড় পেয়ে তিন বছরেই আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন।
- বছরে ৫০ হাজার ২৭০ পাউন্ডের বেশি আয়কারী নির্দিষ্ট উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবীরা পাঁচ বছর ছাড় পেয়ে পাঁচ বছরে আবেদন করতে পারেন।
- সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে নির্দিষ্ট পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষক পাঁচ বছরের পথ পেতে পারেন।
- ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে নির্দিষ্ট পারিবারিক ভিসায় বসবাসরত ব্যক্তিদের জন্য পাঁচ বছরের পথ বজায় রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
- স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিরা তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় কমানোর সুযোগ পেতে পারেন।
বাংলাদেশিদের মধ্যে কেন উদ্বেগ?
নতুন অভিবাসননীতির সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা খাতে কর্মরত বিদেশিদের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার প্রস্তাব।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্যে হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ওয়ার্কার ভিসায় গেছেন। তাদের অনেকে বৃদ্ধাশ্রম, কেয়ার হোম এবং বিভিন্ন সামাজিক পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।
বর্তমান ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে অপেক্ষার সময় ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
এর অর্থ, যারা ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে পাঁচ বছরের নিয়ম অনুযায়ী ২০২৭ সালে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের সামনে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে বিদেশ থেকে নতুন করে সোশ্যাল কেয়ার ওয়ার্কার নিয়োগের সুযোগ ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। ফলে এই খাতে আগে থেকে কর্মরত বিদেশিদের জন্য স্থায়ী হওয়ার পথ কঠিন হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তবে ২০২৬ সালের নভেম্বরের আলোচনায় যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কিছু কেয়ার ওয়ার্কারকে নতুন ১৫ বছরের নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে। যদিও এই ছাড় এখনও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পেয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নয়।
সরকারি সুবিধা নেওয়ার পথ বন্ধ
নতুন প্রস্তাবে সরকারি আর্থিক সুবিধা বা বেনিফিট গ্রহণের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে বসবাসরত অনেক অভিবাসী পরিবার বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে থাকেন।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ধরনের সরকারি সুবিধা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।
এক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলে মূল ১০ বছরের সময়সীমার সঙ্গে অতিরিক্ত পাঁচ থেকে ১০ বছর যুক্ত করার বিকল্প তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় যোগ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তবে সব ধরনের সরকারি সুবিধা গ্রহণ একইভাবে বিবেচিত হবে, এমনও নয়। কোন সুবিধা, কত দিন গ্রহণ করা হয়েছে এবং আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি কী—এসব বিষয় চূড়ান্ত নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণেই অভিবাসীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা গ্রহণ করলেও ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের আবেদন জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার শর্ত
স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।
বর্তমানে অধিকাংশ প্রাসঙ্গিক অভিবাসনপথে স্থায়ী বসবাসের জন্য ইংরেজি ভাষায় বি১ পর্যায়ের দক্ষতা প্রয়োজন। নতুন ব্যবস্থায় তা বি২ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নতুন এই শর্ত ২০২৭ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। বি২ পর্যায় বলতে ইংরেজিতে তুলনামূলক উন্নত দক্ষতা বোঝায়। এতে কথা বলা, শোনা, পড়া ও লেখার সক্ষমতা যাচাই করা হবে।
অর্থাৎ, শুধু দৈনন্দিন কথাবার্তা বলতে পারলেই হবে না; কর্মক্ষেত্র, সামাজিক জীবন এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক পরিস্থিতিতে ইংরেজি ব্যবহারের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
পুরনো বাংলাদেশিরাও কি নতুন নিয়মে পড়বেন?
সরকারের ২০২৫ সালের নভেম্বরের পরামর্শপত্রে বলা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন কিন্তু এখনো স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাননি, তাদেরও নতুন নিয়মের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থাৎ, কেউ ২০২২ সালে পাঁচ বছরের কর্মভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে গেছেন এবং ২০২৭ সালে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, তিনিও পরিবর্তনের প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন।
২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছিলেন, সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং বছরের শেষ দিকে নতুন নীতি প্রকাশ করবে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত অভিবাসন আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদন জমা দেওয়ার সময় কার্যকর নিয়মই বিবেচিত হয়, যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময়কার নিয়ম নয়।
এ কারণে যাঁরা পাঁচ বছরের নিয়মের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যে জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেছেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পরিবার ও সন্তানদের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য নতুন নিয়মের প্রভাব শুধু প্রধান আবেদনকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎও এর আওতায় পড়বে।
বিশেষ করে যেসব পরিবার প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তির কর্মভিসার ওপর নির্ভরশীল, তাদের স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা বেড়ে গেলে দীর্ঘদিন অস্থায়ী অভিবাসন-স্ট্যাটাসে থাকতে হতে পারে।
এতে সন্তানদের শিক্ষা, পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বাড়ি কেনা এবং আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
যদিও সরকার শিশু, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া শিশু, দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত শিশু এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা পরিবারের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
তবে সন্তানদের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা চূড়ান্ত নীতিতে এখনও স্পষ্ট নয়।
শরণার্থী ও ইইউ নাগরিকদের ক্ষেত্রে কী হবে?
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের জন্য ব্রেক্সিট-পরবর্তী EU Settlement Scheme-এর আওতায় পাওয়াদের এই সংস্কারের বাইরে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া Windrush Scheme-এর আওতায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিরাও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বাইরে থাকবেন।
এছাড়া শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও আলাদা পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার। প্রস্তাবে নতুন করে স্বীকৃত শরণার্থীদের জন্য প্রাথমিকভাবে ২০ বছরের বসবাসের সময়সীমার কথা বলা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কাজ ও পড়াশোনার মাধ্যমে সময় কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ১ মার্চ বা তার আগে আশ্রয়ের আবেদন কিংবা পরবর্তী আবেদন জমা দিয়ে পাঁচ বছরের সুরক্ষামূলক অনুমতি পাওয়া নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আগের পাঁচ বছরের পথ বজায় রাখার ব্যবস্থার কথা সংসদীয় গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সমালোচনা
এদিকে নতুন অভিবাসননীতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে বিতর্ক, দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন এবং বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মীর আশঙ্কা, পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বা ১৫ বছরের অপেক্ষা নির্ধারণ করা হলে বিদেশি কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়বে।
বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর যুক্তরাজ্যের ব্যাপক নির্ভরশীলতা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মী দেশটির হাসপাতাল, কেয়ার হোম এবং অন্যান্য সেবাপ্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
সমালোচকদের মতে, যারা যুক্তরাজ্যে এসে কাজ করেছেন, কর দিয়েছেন এবং পরিবার নিয়ে জীবন গড়েছেন, তাদের জন্য মাঝপথে স্থায়ী বসবাসের শর্ত পরিবর্তন করা ন্যায্য নয়।
কিছু রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও অভিবাসী অধিকারকর্মী সতর্ক করেছেন, নতুন নিয়মের কারণে বিদেশি কর্মীরা যুক্তরাজ্য ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে পারেন। এতে শ্রমবাজারে কর্মীসংকট আরও বাড়তে পারে।
১ নভেম্বরের গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নতুন নীতি নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরেও উদ্বেগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতের কর্মীদের জন্য ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা উঠে এসেছে।



